বরিশাল নিউজ
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা খালের ওপর নির্মিত আর্চ সেতুটি দর্শনার্থীদের কাছে এক নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন `মিনি হাতিরঝিল।“
ধামুরা খালের দুই পাশে সবুজের সমারোহ।মাঝখানে বয়ে গেছে স্বচ্ছ জলের ধারা। তার ওপর ধনুকের মতো বাঁকানো সেতুটি দূর থেকে দেখতে অনেকটা রাজধানীর হাতিরঝিলের মতো লাগে।
এলজিইডির উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উত্তর ধামুরা খালের ওপর নির্মিত ৪৪ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার (সিমেন্ট, বালু, পাথর ও রডের তৈরি কাঠামো) সেতুটির চুক্তিমূল্য ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা। গ্রামীণ সেতু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। সেতুটির নির্মাণকাজ করে এমএস বসুন্ধরা ও সুপ্তি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সংযোগ সড়কের অভাবে সেতুটি এতদিন চালু করা যায়নি।

সংযোগ সড়ক নির্মান কাজ বন্ধ ছিল বছরের বেশি সময় ধরে
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত নকশায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক রয়েছে। জমির মালিকানা জটিলতায় সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ ঝুলে ছিল।
এলজিইডির উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জানান,সেতুর ঢাল নামানোর জন্য প্রায় ৩৪ ফুট খাসজমি আছে। তবে সেই জমির ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধে কাজ আটকে যায়। প্রকল্প গ্রহণের আগে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই করা হয়েছিল। এরপর নকশা অনুমোদন নিয়ে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ করা হয়।
শেষ পযন্ত ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৫ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি আর্চ সেতুটি বাংলাদেশ সরকার ও আইডিএ'র যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়।
সেতু চালুর পর থেকে সানুহার-ধামুরা-জল্লা-সাতলা সড়কে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও এসেছে গতি। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটন বলেন, নতুন সেতু হওয়ায় আগের দুর্ভোগ আর নেই। সেতুটি দেখতে বাইরের মানুষও আসছেন।
বরিশাল এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান জানান, গৌরনদী ও উজিরপুরে হাতিরঝিলের আদলে দুটি আর্চ সেতু নির্মিত হয়েছে। প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী ভিড় করছেন সেখানে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর আশপাশে আলোকসজ্জা ও বসার ব্যবস্থা হলে এটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন