৬ রোগেই স্বাস্থ্য সেবার ৫৯% খরচ !

বাংলাদেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে মাত্র ছয়টি রোগে ৫৯ % এবং ১৫ টি ৪১ % অর্থ ব্যয় হয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। এছাড়া পুরুষের চেয়ে নারীর পিছনে বেশি অর্থ ব্যয় হয় বলেও তারা জানায় ।

বরিশাল সার্কিট হাউসে বুধবার অনুষ্ঠিত  ‘ Bangladesh Disease Specific Accounts 2015’ এর অবহিতকরণ কর্মশালা’-য় এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায়  প্রধান অতিথি ছিলেন মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাহমুদ। তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

কর্মশালার উদ্বোধন করে তিনি বলেন,  বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসার ৬৭% নিজের পকেট থেকে ব্যয় করে। এই চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে গিয়ে এ দেশের সাড়ে তিন ভাগ পরিবার অর্থাৎ ৫০ লাখের বেশি পরিবার দরিদ্র থেকে অতি দরিদ্র হচ্ছে। মহাপরিচালক আরও বলেন তাদের আশা ছিলো এই খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা। কিন্তু তা আরও বেড়ে গেছে।

ফোকাল পয়েন্ট বিএনএইচএ ( National Health Accounts ) সেল স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ডাঃ সুব্রত পাল গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, ২০১৫ সালে বিভিন্ন রোগের পেছনে পৌনঃপুনিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

এসব রোগের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যয় হয় পেশী (Muskuloskeletal) এবং সংযোগকারী টিস্যু (Connective tissue) সংক্রান্ত রোগের জন্য জন্য (৫,৫০৮কোটি টাকা)। লিঙ্গভিত্তিক ব্যয় পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে স্বাস্থ্য সেবাতে পুরুষের চেয়ে (১৮,০২৭ টাকা) নারীর জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে (২০,৯৮১ টাকা)। আইসিডি-১০কোড অনুসারে ২১ টি বিস্তৃত বিভাগের শুধুমাত্র ছয়টি বিভাগের রোগের পেছনেই স্বাস্থ্যব্যয়গুলির প্রায় ৫৯%খরচ হয়ে থাকে (পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই)।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক বরিশাল এস, এম, অজিয়র রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম সচিব স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ড. মোঃ আক্তারুজ্জামান, বিভাগীয় পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা বরিশাল মোঃ আবদুস সালাম, সহকারী সচিব স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ওয়াই জিয়াউদ্দিন, সিভিল সার্জন বরিশাল ডাঃ মনোয়ার হোসেন।

গবেষণাপত্র তুলে ধরেন ফোকাল পয়েন্ট বিএনএইচএ সেল স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ডাঃ সুব্রত পাল ও উপ পরিচালক স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট (এইচইউ) স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগ ফাতেমা জোহরা ।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, “আমন্ত্রণ পেয়ে Disease Specific Account কী তা নিয়ে ভাবছিলাম।  এখন গবেষণার ধরণ ভালো লাগলো।” তিনি মেডিকেল অডিট সিস্টেম চালু করার প্রস্তাব দিয়ে বলেন,এতে অপ্রয়োজনীয় ঔষুধ দেয়া হলো কী না তার হিসাব হবে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফয়জুল বাসার বলেছেন, কোন রকম অভিজ্ঞতা না থাকা স্বত্ত্বেও তাকে অধ্যক্ষ করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বিড়ম্বনায় আছেন জানিয়ে বলেন, রিসার্চ ও ট্রেনিং এর উন্নতি করলে স্বান্থ্য সেক্টরে উন্নতি হবে।

বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন মনোয়ার হোসেন বলেছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ যে কাজ করে তার প্রমান হচ্ছে এমডিজির সকল অর্জন এসেছে স্বাস্থ্য খাত থেকে। তিনি বলেন , রির্সাচ আমাদের মাথায় নেই,এসব বুঝি না। কেবল বুঝি রোগীকে সুস্থ রাখতে হবে।

গবেষণাটির প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা যায় ২০১৫ সালে বিভিন্ন রোগের পেছনে পৌনঃপুনিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

সবচেয়ে বড় ব্যয় হয় পেশী (Muskuloskeletal) এবং সংযোগকারী টিস্যু (Connective tissue) সংক্রান্ত রোগের জন্য জন্য (৫,৫০৮কোটি টাকা)। লিঙ্গভিত্তিক ব্যয় পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে স্বাস্থ্য সেবাতে পুরুষের চেয়ে (১৮,০২৭ টাকা) নারীর জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে (২০,৯৮১ টাকা)। আইসিডি-১০কোড অনুসারে ২১ টি বিস্তৃত বিভাগের শুধুমাত্র ছয়টি

বিভাগের রোগের পেছনেই স্বাস্থ্যব্যয়গুলির প্রায় ৫৯%খরচ হয়ে থাকে (পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই)।

বরিশাল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার