পরিবেশ দুষণকারী পলিথিন পুড়িয়ে ভাস্কর্য


 শামীম আহমেদ,বরিশাল নিউজ।। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের রাহুৎপাড়া গ্রামের এক শিল্পী এমিলিয়া রায়।

 প্রচার বিমুখ এই শিল্পী পরিবেশ দুষণকারী পরিত্যাক্ত পলিথিন দিয়ে তৈরী করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, সেবাদানের পথিকৃৎ মাদার তেঁরেসা, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শেখ রাসেলসহ বিশিষ্ট জনের আকর্ষণীয় সব ভাস্কর্য।
 আলোড়ন সৃষ্টি করা শিল্পী এমিলিয়া রায়ের শেষ ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তার পরম যত্নে নির্মান করা ভাস্কর্যগুলো তুলে দেয়া।

 ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা, কবিতা লেখা, গান গাওয়া ও নিজের লেখা গানে কন্ঠ দেয়ার প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক ছিল এমিলিয়ার। এসএসসি পাশ করার পরেই বিয়ে হয় আলফ্রেড রায়ের সাথে। সংসার জীবনে ঢুকে লেখাপড়া থেমে গেলেও থেমে যায়নি তার উদ্ভাবনী  শক্তি। বিয়ের পরে স্বামীর সংসারেও নতুন করে এমিলি শুরু করেন ছাত্রজীবনে তার সেই উদ্ভাবনীর বহিঃপ্রকাশ। দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মা এমিলিয়া রায়।
 ১৯৯০ সালের কোন একদিন রান্না করা গরম কড়াই পাশের পলিথিন ব্যাগের উপর রাখায় পলিথিন ব্যাগ গলতে শুরু করে। এটা দেখে ওই পলিথিনের মাধ্যমেই নতুন করে উদ্ভাবনীর নতুন ইচ্ছে কড়া নাড়ে তার মনে।

 সেদিন থেকে ফেলে দেওয়া পলিথিন ব্যাগ বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা আগুনে পুড়িয়ে শুরু করেন ভাস্কর্য নির্মানের কাজ।
 নির্মান করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাস্কর্য, প্রায় ৮০কেজি ওজনের মাদার তেঁরেসার ভাস্কর্য। শিল্প দক্ষতা আর নিপুনতায়র ছোয়ায় পর্যাক্রমে তৈরী করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ভাস্কর্য। নির্মান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাস্কর্য। ’৭৫ এর ১৫আগস্ট জাতির পিতার সাথে ঘাতকের বুলেটের সামনে দাড়িয়ে প্রাণপন বাঁচার আকুতি নিয়ে দাড়িয়ে থাকা শেখ রাসেলের ভাস্কর্য। নির্মান করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীদের উপর ঝাপিয়ে পড়া পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের মাধ্যমে নির্যাতনের এতিহাসিক ভাস্কর্য। ছোট বড় মিলে শতাধিক ভাস্কর্য রয়েছে তার সংগ্রহ শালায়।
 বর্তমানে বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিক অসুস্থ্যতায় হাঁটা চলায় সমস্যা হলেও থেমে নেই তার শিল্পকর্ম নির্মাণের কাজ। নিরলসভাবে নির্মাণ করে চলেছেন ভাস্কর্য।
 শিল্পী এমিলিয়া রায় জানান, ঘাতকের বুলেটে নির্মম হত্যার শিকার হওয়ার আগে শেখ রাসেলের বাঁচার আকুতিভরা নিপুন ভাস্কর্যটি সব সময় নিজের কাছে রেখে দিবেন। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার তিন বছরের ছেলে তিনু রায় অসুস্থ্য হয়ে ডাক্তারের অভাবে বিনা চিকিৎসায় চোখের সামনে ধুকে ধুকে মারা যায়। শেখ রাসেলের আকুতিভরা ভাস্কর্যর মধ্যে তিনি খুঁজে পেতে চান নিজের হারানো ছেলে তিনুকে।
 বরিশাল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার