ফরচুন বরিশালকে হারিয়ে বেক্সিমকো ঢাকা ৭ উইকেটে জয়ী

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ফরচুন বরিশালকে ৭ উইকেটে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বেক্সিমকো ঢাকা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ফরচুন বরিশাল: ২০ ওভারে ১০৮/৮ (তামিম ৩১, সাইফ ৯, পারভেজ ০, আফিফ ০, হৃদয় ৩৩, ইরফান ২৩, মিরাজ ১২, তাসকিন ৬*, তানভির ২, কামরুল ১*; শফিকুল ৩-২-১০-২, রুবেল ৪-০-৩০-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, নাঈম ৪-১-৮-১, রবি ৪-০-২০-৪, মুক্তার ১-০-৯-০)।

বেক্সিমকো ঢাকা: ১৮.৫ ওভারে ১০৯/৩ (নাঈম ১৩, রবি ২, মুশফিক ২৩*, তানজিদ ২২, ইয়াসির ৪৪*; তাসকিন ৩.৩-০-২৮-০, মিরাজ ৪-০-১৩-১, তানভির ৪-০-২৫-০, আবু জায়েদ ৩-০-১৯-০, আফিফ ১-০-৪-০, কামরুল ৩-০-২০-০)।

ম্যান অব দা ম্যাচ: রবিউল ইসলাম রবি

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার বরিশাল ২০ ওভারে করে মাত্র ১০৮ রান।

তাদের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই রবির শিকার। রবি ৪ উইকেট নিলেন ২০ রানে।

পাশাপাশি দুর্দান্ত বোলিং করেন আরেক অফ স্পিনার নাঈম হাসান ও তরুণ বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলামও। চার ওভারে নাঈম মাত্র ৮ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। শফিকুল মেডেন নেন ইনিংসের ১৬তম ওভার, ডাবল উইকেট মেডেন নেন ১৯তম ওভারে।

ম্যাচের প্রথম ভাগে বরিশাল ব্যাটিংয়ে নামে টস হেরে। তামিমের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন আসরে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া সাইফ হাসান। দ্রুত রান না হলেও চার ওভার অটুট থাকে এই জুটি।

রবি বোলিংয়ে আসেন পঞ্চম ওভারে। ম্যাচের চিত্র বদলের শুরু সেখান থেকেই। ফুল লেংথ বলে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন সাইফ (১৪ বলে ৯)। তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন প্রথম বলেই দৃষ্টিকটু শটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট।

রবির পরের ওভারে আবার বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে আসেন আফিফ হোসেন। এই নিয়ে টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বার শূন্য রানে আউট হলেন তরুণ এই ক্রিকেটার। বাকি দুই ইনিংসে করতে পেরেছেন ২ ও ২৪।

তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তামিম। নাসুম আহমেদকে ছক্কা মেরে বরিশাল অধিনায়ক পূরণ করেন টি-টোয়েন্টিতে ৬ হাজার রান। প্রান্ত বদলে বোলিংয়ে আসা রবির শর্ট বলে তুলে দেন ক্যাচ (৩১ বলে ৩১)।

ইরফান শুক্কুর, মেহেদী হাসান মিরাজরা ব্যর্থ আবার। এরপর বরিশালের ভরসা কেবল তৌহিদ হৃদয়। তরুণ এই ব্যাটসম্যানও পারেননি শেষ পর্যন্ত থাকতে। বিদায় নেন ৩৩ বলে ৩৩ করে।

রুবেল হোসেনের বলে ছক্কা মেরে ইনিংস শেষ করেন তাসকিন আহমেদ।

দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে ওপেন করে অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রবি। নন-স্ট্রাইক প্রান্তে রান আউট হয়ে যান তিনি নাঈম শেখের শট বোলারের হাত ছুঁয়ে স্টাম্পে লাগায়।

বরিশালের বোলাররা এরপর চেপে ধরেন ঢাকার ব্যাটসম্যানদের। ৪ ওভারের স্পেলে মিরাজ দেন মাত্র ১৩ রান। পাওয়ার প্লেতে ঢাকা তুলতে পারে ২২। পাওয়ার প্লের পর রান আউট হয়ে যান নাঈম শেখ।

তিনে নেমে মুশফিকুর রহিম একমাত্র আগলে রাখেন। কিন্তু ভুগছিলেন তিনি রান বাড়াতে। এমনিতে ওপেনার হলেও এ দিন চারে নেমে তানজিদ হাসান তামিম রানের গতিতে কিছুটা দম দেন ২০ বলে ২২ রান করে।

১২ ওভার শেষে ঢাকার রান তখন ৩ উইকেটে ৫৪। মুশফিক ও ইয়াসিরের জুটি সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেয় একটু একটু করে। বাড়তে থাকে উত্তেজনাও। শেষ ৪ ওভারে তাদের প্রয়োজন পড়ে ৩৪ রান।

এই সময়টায় আর চাপ ধরে রাখতে পারেনি বরিশালের বোলাররা। দুই ওভারে যখন প্রয়োজন ১৬ রান, তাসকিন আহমেদের ৫ বলের মধ্যে দুই ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন ইয়াসির। ৩ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত থেকে যান তিনি ৪৪ রানে। মুশফিক ২৩ রানে অপরাজিত ৩৪ বল খেলে।

বরিশাল নিউজ/ ডেস্ক নিউজ