বেশী ব্যবধানে জয় !

বরিশাল-৪: নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থী

বরিশাল নিউজ।। তিনটি থানা এবং ২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনটি। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের পংকজ নাথ এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের জেএম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর এর সাথে। মোট প্রার্থী সাতজন। আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সিআরআই এর জরীপে পংকজ নাথ সবচেয়ে বেশী ব্যবধানে জয় হবে বলে ঘোষণা দেন।

একনজরে: বরিশাল-৪

বরিশাল-৪ আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির ভরাডুবির সময়েও বিজয়ী হয়েছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ। শরিকদের মধ্যে আসন বন্টন করার ক্ষেত্রে দলের শক্তিশালী প্রার্থী মেজবা উদ্দিন ফরহাদকে বাদ দিয়ে ওই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে অপরিচিত নুরুর রহমান জাহাঙ্গীরকে।
এই ক্ষোভে বিএনপি নেতারা আর এলাকায় যাননি। জাহাঙ্গীরের পক্ষে মাঠে কেউ নামেনি।
নির্বাচনী ব্যয়
বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঙ্কজ নাথ নিজ ব্যবসার আয় থেকে নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকার কথা উল্লেখ করেছেন এবং সাইফুল্লাহ নামে অপর এক প্রার্থী শিক্ষকতা থেকে আয়ের ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্বাচনী ব্যয় করবেন বলে ব্যয় বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নূরুর রহমান ব্যবসা থেকে ১৩ লাখ টাকা এবং ধার ও দেনার ৯ লাখ টাকা নির্বাচনে খরচ করবেন।

বরিশাল-৪: হাতপাখা, টেলিভিশন, মিনার, বটগাছ ও ঘড়ি মার্কার প্রার্থী

শিক্ষাগত যোগ্যতা

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি পংকজ নাথ বিএসসি, জেএম নুরুর রহমান (নাগরিক ঐক্য) বি.কম, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ মো. নুরুল কারিম দাওরা হাদিস, খেলাফত মজলিসের রুহুল আমীন স্নাতকোত্তর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাহবুবুল আলম মাস্টার্স, বিএনএফ’র এনামুল হক বিএসএস এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাইফুল্লাহ দাওরা হাদিস ডিগ্রিধারী।

উপার্জন

বরিশাল ৪ আসনে আওয়ামী লীগের পঙ্কজ নাথ পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করে বছরে মোট আয় দেখিয়েছেন ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ১৭ টাকা ও প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০৬ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার দেড়কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে।
আর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হলফনামার হিসেব অনুযায়ী তার মোট আয় ছিল ২১ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৫ টাকা এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ছিল দুই লাখ ৮৮ হাজার ৩৭২ টাকা।
তার আয় বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদেরও পরিমাণ। বর্তমান হলফনামায় পঙ্কজ নাথ দেখিয়েছেন এক কোটি ৩২ লাখ আট হাজার ৪৮৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও বিয়ের উপহার হিসেবে ৬০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার এবং তার স্ত্রীর নামে ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ২২ টাকার অস্থাবর সম্পদ। আর বিগত হলফনামায় ছিল ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও বিয়ের উপহার হিসেবে ৬০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার এবং স্ত্রীর নামে সাত লাখ ১১ হাজার ৩১৩ টাকার সম্পদ।
অপরদিকে, স্থাবর সম্পদের মধ্যে বিগত নির্বাচনী হলফনামায় নিজের নামে ১৯ লাখ ২৪ হাজার টাকার প্লট এবং স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৩ টাকা ফ্লাটের কথা উল্লেখ করেছেন। আর বর্তমানে নিজের নামে ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্লট, ৩তলা একটি ভবন এবং স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৩ টাকা ও ফ্লাটের কথা উল্লেখ করেছেন।
দায়ের ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচনে ২৩ হাজার ৬৭৯ টাকা ঋণের কথা উল্লেখ করলেও বর্তমানে আট লাখ টাকা ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন।