বরিশালে সাংবাদিক নির্যাতন:পুলিশ প্রত্যাহার, বিচার দাবি


নির্যাতনকারী মাসুদকে সনাক্ত করছেন ডিবিসির ক্যামেরাপার্সন সুমন হাসান-বরিশাল নিউজ

বরিশালে ডিবিসির ক্যামেরাপার্সন সুমন হাসানকে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের চাকুরীচ্যুত করার দাবি জানিয়ে বরিশালের সাংবাদিকরা। নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কে বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নগরীর বিউটি রোড এলাকায় মঙ্গলবার দুপরে সুমন হাসানকে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের ৮ সদস্যকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ।

ডিবিসি’র ক্যামেরাপার্সন সুমন হাসান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে এক নিকট আত্মীয়কে গোয়েন্দা পুলিশের আটক করেছে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস’লে যান । যে ্‌ওই খবরটি তাকে দেয় পুলিশ তাকে আটক করলেও তার আত্মীয় আটক হয়নি। তাকে মিথ্যা খবর দিয়ে হয়রানি করার জন্য খবরদাতার সাথে তার বাক বিতন্ডা হয়। একপর্য়ায়ে তাকে একটি থাপ্পর মারে সুমন। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশ তার সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তার উপর চড়াও হয় । এ সময় প্রকাশ্যে তার পড়নে থাকা টি শার্ট টেনে হিচড়ে এবং পেটাতে পেটাতে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। পথিমধ্যে তার অন্ডকোষ চেপে ধরা সহ তাকে অমানুসিক নির্যাতন করে বলে সুমন অভিযোগ করেন।

বরিশালে ডিবিসির ক্যামেরাপার্সন সুমন হাসানকে নির্যাতনকারী দলের নেতা এসআই আবুল বাসার-বরিশাল নিউজ

খবর পেয়ে তার সহকর্মীরা নগরীর পলিটেকনিক রোডে নগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে যান। সেখানে নির্যাতিত সাংবাদিক সুমনকে হাতকড়া পড়িহিত অবস’ায় কাঁদতে দেখে ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন অন্যান্য সাংবাদিকরা। এ সময় সাংবাদিক সুমনকে নির্যাতনকারী প্রধান অভিযুক্ত কনস্টেবল মাসুদ একজন সাংবাদিককে লাথি মারে। এতে সাংবাদিকরা ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন। এ সময় মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিন) গোলাম রউফ খান সাংবাদিকদের শান- করে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সকল সাংবাদিকের দাবির প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের ওই দলে থাকা ৮ সদস্যকে মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজড) সহ তদন- সাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস’া নেওয়ার ঘোষণা দেন মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার গোলাম রউফ খান।
তবে এ ঘটনায় টেলিভিশন ক্যামেরায় কোন কথা বলতে রাজী হননি মেট্রোপলিটন পুলিশের কোন কর্মকর্তা।

অপরদিকে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের চাপের মুখে মারধরের শিকার হওয়া গুরুতর আহত সুমনকে ছেড়ে দেওয়ার পর তাকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বরিশাল নিউজ/এমএম হাসান