আবদুল গাফফার চৌধুরী চলে গেলেন

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই। লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ভোরে তিনি মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

তিনি বাংলা ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’র রচয়িতা।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ব্রিটিশ শাসনামলে তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উলানিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়ে হাইস্কুলে ভর্তি হন গাফফার চৌধুরী। ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকা কলেজ থেকে পাস করেন ইন্টারমিডিয়েট। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি পান।

দৈনিক ইনসাফ, দৈনিক সংবাদ, মাসিক সওগাত, মাসিক নকীব পত্রিকায় তিনি কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাকে।

দুবছর পর মানিক মিয়া তার নতুন রাজনৈতিক পত্রিকা ‘চাবুক’ এর দায়িত্ব দেন আবদুল গাফফার চৌধুরীকে। সামরিক শাসন জারি হলে সেটা বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর দৈনিক আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী, দৈনিক জেহাদ, সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় বিভিন্ন পদে কাজ করেন গাফফার চৌধুরী। ১৯৬৪ সালে সাংবাদিকতা ছেড়ে ব্যবসা করার চেষ্টায় অনুপম মুদ্রণ নামে একটি ছাপাখানা খোলেন।

তিনি ১৯৬৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ২০০৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি একুশে পদক, ইউনেসকো সাহিত্য পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পদক, সংহতি আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন।

দেশের মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

দেশের মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বরেণ্য সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ খান গণমাধ্যমকে বলেছেন তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলাদেশে দাফন করা হবে।

তিনি জানান, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী জীবিত অবস্থায় আমাদের বলে গেছেন, তিনি মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশে তার স্ত্রীর কবরের পাশে যেন তাকে দাফন করা হয়।

বরিশালনিউজ/ ডেস্ক নিউজ