ডিএনএ টেস্টে বাবা সনাক্ত,তারপর ….

দন্ডপ্রাপ্ত সিদ্দিক-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। ধর্ষনের অপরাধে আবু বক্কর ছিদ্দিক নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ বুধবার এ রায় দেন। এই সময় অভিযুক্ত আবু বক্কর ছিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল।

এছাড়াও রায়ে ধর্ষণে জন্ম নেয়া শিশুর ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভরণ-পোষণের ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে শিশুটির ভরণ-পোষণ নির্ধারণ করে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির অর্জিত সম্পদ থেকে আদায়ের জন্য রাষ্ট্রকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি শিশুটি তার মা অথবা বাবা কিংবা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার অধিকার রাখে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর ছিদ্দিকের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার লামছড়ি এলাকায়। ধর্ষণের শিকার ওই নারী আবু বক্কর ছিদ্দিকের চাচাতো বোন।

বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি ফজলুল হক ফয়েজ বলেন, আবু বক্কর ছিদ্দিক তার চাচাতো বোনকে ২০০৫ সালে ধর্ষণ করে । এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। বিষয়টি এলাকাবাসী সালিশ ডেকে ধর্ষক আবু বক্করকে ধর্ষিতা কিশোরীকে বিয়ে করতে বলে। কিন্তু সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। ২০০৬ সালে ছেলে সন্তান জন্ম দেন ওই কিশোরী।
এ ঘটনায় ২০০৬ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে মামলা করেন ওই কিশোরী। পুলিশ সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করলে বিয়ের ‘কাবিন’ দেখিয়ে জামিনে মুক্তি পায় সে। কিন্তু মুক্তি পেয়ে সে আর স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রাখেনি। সিদ্দিকের দাবি ছেলে তার নয়। এই ঘটনায় ডিএনএ টেস্টের পর ছেলে সিদ্দিকের বলে প্রমানিত হয়।
 
পিপি ফজলুল হক ফয়েজ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি যুগন্তকারী রায়। কারণ ১৪ বছর আগের ধর্ষণের মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
বরিশাল নিউজ/এমএম হাসান