সুন্দরবন-১১ লঞ্চে খুন; ছাদে কীভাবে গেল শামীম

সুন্দরবন-১১ লঞ্চে যুবক হত্যার ঘটনায় কমপক্ষে চারজন অংশ নেয় বলে ধারণা পুলিশের ।  শামীমের সাথে থাকা ব্যাগ, মোবাইল, মানিব্যাগ পাওয়া না যাওয়ায় ঘটনাটিকে ছিনতাই বলে অনুমান করছে তারা । তবে প্রেমের বিষয় থাকতে পারে এমন ধারণাও রয়েছে তাদের।

বরিশাল সদর নৌ-থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, হত্যাকান্ডে আঘাতের ধরণ দেখে মনে হয়েছে ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সময়ে সম্ভবত দুই-তিনজনে শামীমকে শক্ত করে ধরে রেখেছে । তিনি বলেন, নিহত যুবকের শরীরে  আঘাতের সাতটি গভীর ক্ষত রয়েছে। পেটে, হাতের কনুঁইতে, বুকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে খুনিরা।

লঞ্চের সুপারভাইজার সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ছাদে ওঠা যাত্রীদের নিষেধ। ছাদও আটকানো ছিল। তাহলে শামীম কীভাবে  ছাদে গেল এই প্রশ্ন উঠেছে। তবে বেশ কয়েকজন যাত্রী বলেছেন,  সুন্দরবন লঞ্চের ছাদের দরজা সব সময়েই খোলা থাকে । ঘটনার দিন সোমবারও ছাদের স্টাফ কেবিনগুলো ভাড়া দিয়েছে লঞ্চ স্টাফরা।

বিআইডব্লিউটিএর উপ পরিচালক ও বরিশাল নৌ-বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লঞ্চে হত্যাকান্ড কখনো লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারেনা ।

নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকান্ডের শিকার শামীম কুপিলা গ্রামে ছোট মামা নয়নের বাড়িতে থাকতো । শামীমের জন্মের পর তার মাকে তালাক দিয়ে আবার বিয়ে করেন বাবা আব্দুল খালেক। আর কয়েক বছর আগে শামীমের মা বিয়ে করে চলে যান দ্বিতীয় শ্বশুর বাড়ি। ফলে ছোট মামার ঘরে থেকেই বড় হয় শামীম ।

  সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর শামীম ঢাকায় পাড়ি জমায়। মাস দুয়েক আগে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় একটি বেল্ট তৈরীর কারখানায় কাজ নেয় তিনি ।

ব্যাগে পাওয়া তার কর্মস্থলের বন্ধু রিপন জানিয়েছে, সোমবার,১৬ নভেম্বর তিনদিনের ছুটি নিয়ে মায়ের সাথে দেখা করার জন্য সুন্দরবন-১১ লঞ্চে করে বাড়ি ফিরছিলো শামীম ।  ছুটি পাওয়ার পর তার ব্যাগটি চেয়ে নিয়ে এসেছিল শামীম। সেই ব্যাগে রিপনের আইডি কার্ড ছিল। ওই কার্ডের সূত্র ধরেই পুলিশ শামীমকে শনাকাত করে। রিপন ও শামীম একই কারখানায় কাজ করতো এবং একই রুমে থাকতো।

বরিশাল নিউজ/ স্টাফ রিপোর্টার