ইউক্রেনে বিমান বিধ্বস্ত ট্রুডো দায়ি করলেন ট্রাম্পকে



বরিশাল নিউজ।। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক উত্তেজনা তৈরি না করতো তাহলে বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীরা হয়তো এখনও বেঁচে থাকতেন।

 কানাডার এই প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি মনে করি, যদি কোনো উত্তেজনা না থাকতো, ওই অঞ্চলের উত্তেজনা না বাড়তো, তাহলে বিমানের কানাডীয় আরোহীরা এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাড়িতে থাকতেন।’

 তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অ-পারমাণবিক ইরানের খুব, খুবই প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে যে উত্তেজনা; সেটিরও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

 গত বুধবার তেহরান থেকে ইউক্রেনের ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ উড্ডয়নের পরপরই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত এই বিমানের ১৭৬ আরোহীর সবাই মারা যান। নিহত যাত্রীদের অন্তত ৫৭ জন কানাডার নাগরিক; যাদের অনেকের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল।

 বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ৩ জানুয়ারি মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিদেশি সশস্ত্র শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হন।
 জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে গত বুধবার ,৮ জানুয়ারি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দুটি সামরিক ঘাঁটিতে এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী একটি বিমানে ভুলে গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ইরানের প্রেসিডেন্ট বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনাকে ক্ষমার অযোগ্য মানবীয় ভুল বলে মন্তব্য করেছেন।

 বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ইরানের কাছে থেকে পরিষ্কার এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য দাবি করে আসছেন জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার সময় তিনি এই দাবি জানিয়েছেন। বিমানটি ভুলেই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে শনিবার স্বীকার করেন রুহানি।

 পরে এক সংবাদ সম্মেলনে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, তিনি রুহানিকে এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন।  ইরানকে এর পুরো দায় নিতে হবে বলেছেন তিনি।

 পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকার এই দেশটিতে অন্তত ২ লাখ ১০ হাজার ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক বসবাস করছেন।
 এদিকে, ভুলেই বিমান বিধ্বস্ত করা হয়েছে বলে ইরানের ক্ষমতাসীন সরকার স্বীকারোক্তি দেয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই বিক্ষোভ থেকে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি উঠেছে।
 সূত্র: অনলাইন