বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ আসনে বসতে যাচ্ছে পাকিস্তান। ৭৪ বছরের অপেক্ষার পর দেশটি এই নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আয়োজিত সম্মেলনে সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী সংস্থা দুটির বার্ষিক সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি বছর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে সভাপতি বেছে নেওয়া হয়। প্রভাবশালী দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও এই পদ উন্মুক্ত। সাধারণত সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী, অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানকে প্রতিনিধি করা হয়। বর্তমানে পাকিস্তানে বিশ্বব্যাংকের বিষয়টি সামলায় অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ এবং আইএমএফের দেখভাল করে অর্থ বিভাগ। সেই সূত্রে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চিমা বিশ্বব্যাংকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত থাকায় এই পদ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় এই পর্ষদের সভাপতির চেয়ারে বসার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৫০ সালে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী চিন্তামন ডি দেশমুখ প্রথম এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান, ১৯৬৮ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ১৯৯৯ সালে নেপাল বার্ষিক সভার সভাপতির আসন অলংকৃত করে।
২০২৭ সালের ৪ থেকে ৯ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বার্ষিক সভার সূচি পরিচালনা ও প্রেস ব্রিফিং করাই হবে পাকিস্তানের মূল কাজ। এই পদের মাধ্যমে পাকিস্তান বাড়তি কোনো ভোটাধিকার বা সহজে ঋণ পাওয়ার সুবিধা পাবে না। কারণ ঋণ মঞ্জুর ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় পৃথক কার্যকরী পর্ষদ।
সরাসরি আর্থিক সুবিধা না থাকলেও বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে এটি বড় সুযোগ। বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের সাথে এক টেবিলে আলোচনার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট ও তহবিলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশ্বদরবারে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে দেশটি।
সূত্র: দ্য ডন
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন