ইলিশ রক্ষা অভিযানকারীদের উপর আবারও হামলা

 ইলিশ রক্ষার অভিযান চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত চারবার  হামলার শিকার হয়েছে অভিযানকারী দল। নৌ পুলিশের উপর তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে বরিশালের হিজলা উপজেলায়। এছাড়া সদর উপজেলায় হামলা করা হয় ইপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দলে।

১৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন দেশের নদ-নদীতে সরকারি এ নির্দেশনা অনুযায়ী ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। 

এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গিয়ে ২৮ অক্টোবর হিজলার গৌরবদী ইউনিয়নের অন্তরবাম পয়েন্টে সবশেষ আক্রান্ত হয় নৌ-পুলিশ।

জানা গেছে, বুধবার রাত ২ টার দিকে মেঘনা নদীতে টহল দেয়ার সময় একটি বড় বোটকে সংকেত দেন পরিদর্শক মো. আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন একটি টিম। এসময় বোটটি পালিয়ে যেতে উদ্যত হলে নৌ-পুলিশ  তাদের ধাওয়া করে। এসময় জেলেদের ট্রলারটি নৌ-পুলিশের ট্রলারকে ধাক্কা দিলে পরিদর্শক মো. আবু তাহের নদীতে পড়ে যান।

এ ঘটনায় হিজলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব বাঘা, মুহাম্মদ আলী বাঘা ও মো. জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি মৎস আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান হিজলা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক শেখ মো. বেল্লাল হোসন।

এরআগে মঙ্গলবারও হামলার শিকার হয় নৌ পুলিশ। আবুপুর- হরিনাথপুর ভাসমান নৌপুলিশ ইউনিট ১ এর এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান,  মঙ্গলবার সকালে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে হিজলার বদর পুর সংলগ্ন নদীতে তারা অভিযান পরিচালনা করেন। আকস্মিক সাত/আট টি নৌকা পুলিশের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শটগানের চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

নিষেধাজ্ঞা শুরুর দ্বিতীয় দিন ১৫ অক্টোবর রাতে বরিশাল জেলার হিজলায় প্রথম নৌ-পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আর এ ঘটনায় নামধারী ১০ এবং অজ্ঞাত ২৫-৩০ জনকে আসামি করে নৌ-পুলিশ একটি মামলাও দায়ের করে।  এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহনে উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. মুনিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন অভিযানিক দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে ২০ অক্টোবর রাতে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও অভিযানিক দলের বোটচালকসহ তিন জন আহত হন।

বরিশাল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার