মিশ্র বাগানে দীর্ঘমেয়াদী লাভ

সদর উপজেলার চরকাউয়ায় মিশ্র ফল বাগান-বরিশাল নিউজ
সদর উপজেলার চরকাউয়ায় মিশ্র ফল বাগান-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। বরিশালে মিশ্র ফলবাগান করে লাভবান হচ্ছেন বাগান মালিকরা। বারো মাসী ফলের পাশাপাশি মৌসুমি ফলও উৎপাদন করছেন তারা। কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করায় ক্রেতাদের কাছে রয়েছে এসব ফলের বিশেষ কদর।
সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকায় এমন একটি মিশ্র বাগান গড়ে তুলেছেন মো. সাদিক হোসেন। এক একর জমি নিয়ে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু তার।
সাদিক বলছিলেন,‘‘বাবার উৎসাহে নিজেদের জমিতে বাগান করি। সেখানে আম, আমড়া, লেবু, মাল্টা, নারিকেল আর কাঠালের গাছ লাগিয়েছি। ধীরে ধীরে লাভ হওয়ায় চাচাদের জমি লিজ নিয়ে বাগান বাড়িয়েছি।’’
বর্তমানে তার বাগানের আয়তন সাড়ে তিন একর। সেখানে রয়েছে ২৭ ধরণের ফল গাছ। বরিশাল নিউজের সাথে নিজের বাগানে দাড়িয়ে মঙ্গলবার কথা বলেন সাদিক। অন্য ব্যবসা করলেও বাগানের প্রতি যে তার বিস্তর খেয়াল তা বোঝা গেল একটু পরেই।
‘‘আমার বাগানে ২২০টি আমগাছ, ২১০টি মাল্টা গাছ, ২৫০টি লেবু গাছ, ৪৬টি আমড়া গাছ, ১০০টি নারিকেল গাছ, ৬০টি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এরমধ্যে আম্রপালি, বারি ফোর মল্লিকা, হাড়িভাঙা, লেংড়া, গোপালভোগসহ ১৪ ধরণের আম আছে। আর বারি-১ ও চাইনিজ মাল্টা গাছও আছে। নারিকেল গাছগুলোর কিছু দেশি আর কিছু খাটো জাতের ভিয়েতনামিজ। ’’

বাগানমালিক মো. সাদিক হোসেন-বরিশাল নিউজ
বাগানমালিক মো. সাদিক হোসেন-বরিশাল নিউজ

সাদিকের শখের গাছও আছে অনেক । তিনি যেমনটি বলছিলেন,‘‘এসব গাছ থেকে যে ফল আসে সেগুলো আমার হিসেবে অর্থকরী। এছাড়া শখের অনেক গাছও আছে। যেমন আঙুর, আপেল, কমলা, জাম্বুরা, পেঁপেঁ, পেয়াড়া গাছসহ আরো অনেক।’’
তার বাগনে নিয়মিত কাজ করেন দুইজন শ্রমিক। ফল তোলার মৌসুমে এ সংখ্যা আরো বেড়ে যায়।
সাদিকের বাগানের নিয়মিত খবর রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বরিশাল নিউজকে বলেন,‘‘এখানে আগ্রহটা হচ্ছে আসল। সাদিক ভাই এত ব্যস্ততার মাঝেও এই বাগান নিয়ে খুব খাটেন। গাছের কোনো সমস্যা দেখা দিলেই আমাদের ফোন দেন অথবা অফিসেই চলে যান। এত যত্ন করলে তার আউটপুটটা তো ভালো হবেই।’’
মিশ্র বাগান সম্পর্কে তিনি বলেন,‘‘মিশ্র বাগানের সবচেয়ে বড় সুবিধা এধরণের বাগান থেকে বারো মাসই আয় আসে। ফলে বাগানীরা আগ্রহ হারান না।’’
নতুন বাগান করতে আগ্রহীদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বরিশাল কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক তুষার কান্তি সমাদ্দার-‘‘নতুন কেউ এমন বাগান করতে আসতে চাইলে অবশ্যই তিনি ইনস্ট্যান্ট রেজাল্ট পাবেন না। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী লাভজনক। দুই তিন বছর পর মূল আউটপুটটা আসতে থাকে।’’
এত গাছ, এত জমি আর এত পরিশ্রমের কথা শুনে সাদিকের কাছে বরিশাল নিউজ জানতে চায় তার বিনিয়োগ আর লাভের হিসাব। জবাবে তিনি বলেন,‘‘আলহামদুলিল্লাহ্‌। এ পর্যন্ত ২৮ লাখ টাকা ইনভেস্ট করেছি। তিন বছরেই ১০ লাখ টাকার মতো উঠে গেছে।’’ উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে জানিয়ে সাদিক আশা প্রকাশ করেন এবছরই বিনিয়োগের টাকা উঠে যাবে তার।

সাদিকের বাগানে ফলেছে চাইনিজ মাল্টা-বরিশাল নিউজ
সাদিকের বাগানে ফলেছে চাইনিজ মাল্টা-বরিশাল নিউজ

বরিশালের অল্প যে কয়েকজন বাগান মালিক মাল্টার চাষ করেন তাদের একজন সাদিক। এ ব্যাপারে তিনি বলেন,‘‘একমাত্র ছত্রাক আক্রমণ ছাড়া মাল্টা গাছে রোগবালাই কম। তাই ইদানিং মাল্টা থেকে ভালো লাভ করছি। নিজেদের পরিচিতজনরাই এগুলো কিনে নিয়ে যান। আমি কোনো রাসায়নিক দেই না বলে তাদের কাছে এর কদর অনেক।’’
মাল্টা চাষ নিয়ে বরিশাল নিউজের সাথে কথা বলেন বরিশাল কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক হরিদাস শিকারী। তিনি বলেন,‘‘বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি মাল্টা চাষ হয় পিরোজপুরে। ইদানিং বরিশাল জেলায় মাল্টার বেশ কয়েকটি বাগান গড়ে উঠেছে। কেউ যদি মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখায় আমরা তাদের সবধরণের সহায়তা দেই।’’
বরিশাল নিউজ/শাওন