বরিশালের ৫ ফসল হুমকির মুখে,বাঁচানোর চেষ্টায় কৃষি বিজ্ঞানীরা

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূণ  ফসল নারকেল,পান,সুপারি,আমড়া এবং মুগ ডাল উৎপাদন হঠাৎ হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান,এই ফসল বাঁচাতে তারা গবেষণা শুরু করেছেন। তাদের আশা গবেষণার সুফল তিন বছরের মধ্যে কৃষকের মাঠে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এই পাঁচ ফসলে মধ্যে নারিকেলের মাকড়, আমড়ার হগ পাম বিটল এবং পানের কালো মাছি পোকাসহ নিয়ে চিন্তার শেষ নেই কৃষকের।

কৃষি বিজ্ঞানীনা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যেমন এ অবস্থা হয়েছে,তেমনি পোকা মাকড় দমন করতে কৃষকরা অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করায় শুধু ফসলেরই নয়,ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও।

২০১৯ সালে দেশে এই পোকার আক্রমন দেখা যায় যশোরে। তখন কৃষি বিভাগ ভেবেছিল যশোরেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু পরে দেখা যায় অনেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যেখানে নারকেল গাছ রয়েছে মাকড়ের আক্রমন সেখানে বেশি। আর নারকেল গাছ থেকে এই পোকা আশেপাশের গাছে ছড়িয়ে পড়ছে।

এই মাকড় দক্ষিণ আমেরিকা থেকে মাইগ্রেড করেছে জানান বরিশালের রহমতপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কীটত্বত্ত বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.মাহবুবুর রহমান।

বিজ্ঞানীদের বাগান-বরিশাল নিউজ

নগরীর লাকুটিয়ার কৃষক জাকির ও নান্নু মিয়ার লম্বা নারকেল গাছের পাশাপাশি খাটো জাতেরও নারকেল বাগান রয়েছে। তারা বললেন,তাদের বাগানে এই সমস্যা শুরু হয়েছে ৩/৪ মাস আগে । পোকার আক্রমনে তাদের বেশির ভাগ গাছের পাতা এমনভাবে কালো হয়ে গেছে দেখলে মনে হয় পুড়ে গেছে। আর পাতা ভেঙ্গে ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। ডাবে দাগ পড়ে যায়।

এর থেকে গাছ বাঁচাতে তারা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে গাছে ওষুধ নিয়ে স্প্রে করেছিলেন। কয়েক দিন ভালো ছিলো,কিন্তু আবার মাকড় দেখা দিয়েছে। পাশের গাছপালাও নষ্ট হচ্ছে জানালেন তারা।

তারা বলেন,খাটো জাতের নারকেল গাছে তবু স্প্রে করা যায়,কিন্তু লম্বা গাছেতো স্প্রে করার উপায় নাই।  

এই ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.মাহবুবুর রহমান জানান যশোরের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই ফসল বাঁচাতে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গত বছর থেকে তিন বছর (জুলাই/২০১৯-জুন/২০২২) মেয়াদী প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বরিশালে কর্মসূচি পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান।   তিনি জানান বরিশাল,ভোলা ও পটুয়াখালী জেলায় তিনটি আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এ নিয়ে বিভাগের ছয় জেলায় কাজ করছে।

কর্মসূচিতে রয়েছে,

     দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ফসল নারিকেল, আমড়া, পেয়ারা, পান, সুপারি ও মুগডালের ক্ষতিকারক পোকামাকড় সনাক্তকরণ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ  ফসল উৎপাদনের আধুনিক লাগসই চারটি টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ।

     গবেষণায় উদ্ভাবিত আধুনিক ও লাগসই প্রযুক্তিসমূহ দক্ষিনাঞ্চলের কৃষকের মাঠে ৩৭ টি  উপযোগীতা পরীক্ষণের মাধমে কৃষক এবং সম্প্রসারণ কর্মীকে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে কলমে অবহিতকরণ।

    প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে প্রায় ২৬৮০ জন কৃষক এবং সম্প্রসারণ কর্মীকে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

     উচ্চ ফলনশীল, লাগসই ও পোকামাকড় সহনশীল মুগডালের মানঘোষিত বীজ, আমড়া, পেয়ারার মান সম্পন্ন চারা, এবং পানের মান সম্পন্ন কাটিং উৎপাদন ও বিতরন ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগ, জয়দেবপুর, গাজীপুর এসব প্রযুক্তিগুলো উদ্ভাবণ করছে।  

তাদের গবেষণার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে এই বিজ্ঞানী লম্বা গাছে স্প্রে করার প্রযুক্তি কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন।

বরিশাল নিউজ /স্টাফ রিপোর্টার