ধানের দাম নেই, শ্রমিকও নেই

আগৈলঝাড়ায় ইরি-বোরো ক্ষেত-বরিশাল নিউজ

শামীম আহমেদ ।। আগৈলঝাড়ায় এবার ইরি-বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু নায়্যমূল্য পাচ্ছে না ক্রষক। উফশি হাই ব্রীড জাতের স্থানীয় বাজার মূল্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা । ব্রী-২৯ জাতের ধানের বাজার মূল্য ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। যা চাষীর উৎপাদন খরচের অর্ধেক মাত্র। অথচ মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে এক হাজার টাকার বিনিময়ে এক মন ধান ও নগদ এক হাজার টাকা হারে দাদন নিয়ে বেশী ফলনের আশায় উচ্চ মুল্যে বীজ ক্রয় করে বীজতলা তৈরীসহ চাষাবাদ করেছেন। জ্বালানী তেল সহ কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের গত বছরের চেয়ে এ বছর উৎপাদনে বেশী টাকা গুনতে হয়েছে। চাষীরা জানান, এবছর প্রতি মন ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮শ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
এদিকে ধানের দাম কম হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। গোপলগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরনখোলা, মোড়লগঞ্জ জেলা-উপজেলার ধানকাটা শ্রমিকরা আসবে না বলে জানিয়ে দেয় কৃষকদের। ফলে আগৈলঝাড়ার কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপদে। যদিও এরই মধ্যে ওই সব এলাকার শ্রমিকরা ধান কাটার জন্য আগৈলঝাড়া এলাকায় আসলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম। যারাও এসেছেন তাদের অনেকেই ধানের দাম কম ও জমিতে পানি জমে যাওয়ার কারনে ধান কাটতে চাইছেন না। অনেকে আবার এসে জমিতে পানি দেখে ও ধানের দাম কম হওয়ায় নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। স্থানীয় শ্রমিকরওা ধান কাটতে অনিহা প্রকাশ করছে।
 উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি বছর ১০ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করা হয়েছে। সরকার কৃষকদের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করলেও ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়মনীতি সহ নানা জটিলতায় কৃষকরা ব্যাংক ঋণ নিতে না পেরে দাদন ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকেই টাকা সংগ্রহ করতে হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবছর কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ পরেছে জানান তারা। আর এ সুযোগে দাদন ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা আরও সমপ্রসারিত করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত ফসলের বাজার মূল্য এক শ্রেনির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু সরকার বাজার মনিটরিং না করায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বরিশাল নিউজ/শামীম