কোথায় রোগ তা ধরতে পারি না-প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল নিউজ।। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট ও বস্ত্র শিল্পের কথা উল্লেখ করে আক্ষেপের সঙ্গে বলেছেন, সরকারিভাবে কোনো শিল্প চালাতে গেলে সেটা আলোর মুখ দেখে না। কোথায় রোগ তা ধরতে পারি না।
 বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার আয়োজিত বস্ত্রমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালে আমি দেশে আসার পর সারা দেশ ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি দেখেছি এ দেশের মানুষের কী অবস্থা। মানুষের পরণে ছিল জীর্ণশীর্ণ কাপড়। বিদেশ থেকে পুরোনো কাপড় এনে এদেশের মানুষের চাহিদা মেটানো হয়েছে। অধিকাংশ মানুষের ঘরবাড়ি ছিল না। চিকিৎসা ছিল না, ছিল না অন্ন বা খাবার। এমনই একটা অবস্থায় দিনযাপন করত এ দেশের মানুষ। সেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধি এখন ৮ দশমিক ১৫ ভাগে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে সাথে মূল্যস্ফীতি আমরা পাঁচ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিম্নভাগে, এটা ভালো অর্থনীতির একটা সুফল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানাতে যাতে অনবরত উৎপাদন হয়, কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা শিল্প-পুলিশের ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন শিল্পে যাতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করা যায় সেজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রের ওপর শুল্ক কমিয়েছি। রফতানিকারকদের ঋণ সুবিধা এবং ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। রফতানিকারকরা ২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার ঋণ সুবিধা নিতে পারেন, এ সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমি যখন সরকার গঠন করি, তখন পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ছিল মাত্র ১ হাজার ৬শ টাকা। পরে তাদের বেতন আট হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আমি জানি না পৃথিবীর কোনো দেশে একসাথে এত টাকা বেতন বাড়ায় কি না। শুধু পোশাক শিল্প নয়, অন্যান্য সেক্টরেও আমরা সকলেরই বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি। এছাড়া পোশাকশিল্পের সদস্যরা যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে সেজন্য তাদের হোস্টেল, ডরমেটরি নির্মাণ করে দিয়েছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের আমরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এরকম বিভিন্নভাবে আমরা তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি । এছাড়া আমরা বেশকিছু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। যেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া ।

 বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চলবে তিনদিন।
বরিশাল নিউজ/  নিউজ