উজিরপুরের মাটিতে মদিনার খেজুর


এম এম হাসান,বরিশাল।। গ্রামের নাম পূর্ব ধামসর। উপজেলা উজিরপুর। জেলার নাম বরিশাল । এই পূর্ব ধামসর গ্রামটি এখন মদিনা নগরী আর খেজুর প্রিয়দের দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। মদিনা খেজুর চাষ করে স্বাবলম্বি হওয়ার স্বপ্ন ছড়াচ্ছে গ্রামের তরুনদের মধ্যে।


উজিরপুর উপজেলায় আল মামুনের মদিনার খেজুর বাগান-বরিশাল নিউজ

মদিনার খেজুরের এই উদ্যোক্তা হলেন আল মামুন। তার খেজুর বাগান দেখতে মানুষের আগ্রহের যেন শেষ নেই। ছুটে যাচ্ছেন সংবাদকর্মীরাও। যা একটু বাধা করোনা। মাস্ক পড়া আর ভিড় ঠেকানো যেন খেজুর চাষের চেয়েও কঠিন এখন!

উজিরপুরের বামরাইল ইউনিয়নের পূর্ব ধামসর গ্রামের মকবুল হাওলাদার যখনই মদিনার খেজুর খেতেন,বীজটি তখনই মাটিতে পুঁতে রাখতেন। আশা ছিল সেই বীজ থেকে চারা হবে। নিজ বাড়ীর আঙ্গীণায় পাবের মদিনার খেজুর। একইভাবে তার স্ত্রী সামসুন্নাহার মঞ্জু।

বছরের পর বছর ধরে তারা মদিনার খেজুরের বীজ পুঁতে রাখতেন বাড়ীর মাটিতে। কিন্তু সেই বীজ থেকে চারা হয়নি কখনো।

এবার পরের প্রজন্ম তার ছেলে আল মামুন। পেশাগত কারণে সৌদি আরবে ছিলেন ১৭ বছর।


খেজুর ছড়া দেখে দারুণ খুশি মামুন-বরিশাল নিউজ

খেজুরের ড্যাম (মূল গাছের পাশ থেকে বের হওয়া চারা) সংগ্রহ করার জন্য একটি শাবল বানালেন। সুবিধা মতো যেখানে ড্যাম পাওয়া যাবে,সেটি সংগ্রহ করার জন্য শাবলটি সথে নিয়ে ঘুরেছেন ১৪ বছর।
মাঝে মাঝে সংগ্রহ করা সেই ড্যাম আত্মীয়ের মাধ্যমে বাড়ীতে পাঠিয়েছেন বাবার কাছে। কিন্ত ড্যাম থেকে আর গাছ হয়নি। তবুও হাল ছাড়েননি আল মামুন।

২০১৪ সালে দেশে ফেরেন কিছু বীজ আর ড্যাম নিয়ে। তার বাবার পরামর্শ ছিলো, কোন লাভ নেই। এত বছর চেষ্টা করেও কিছু হয়নি। এ দেশের মাটিতে মদিনার খেজুর হবে না। তিনি ছেলেকে এই উদ্যোগ না নেওয়ার জন্য বলেন। কিন্ত ছেলে মামুন তার কথা শোনেননি।

বীজ থেকে চারা -বরিশাল নিউজ

নিজেদের ৩০ শতাংশ জমিতে সেই বীজ আর ড্যাম লাগিয়ে শুরু করেন পরিচর্যা। তার এই উদ্যোগ দেখে এলাকাবাসী হেসেছেন। তারা বলেতেন, “পাগলামি।” আল মামুন তাদের হাসি দেখে শুধু কাঁদতে বাকি রেখেছেন। তবুও আশা ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রম করে চারা ফলিয়েছেন। মামুনের ভাষায় “অবশেষে আল্ল-হর রহমত এসেছে”। বীজ থেকে চারা বড় হয়েছে । ড্যাম থেকেও হয়েছে গাছ। মাত্র সাড়ে চার বছরে ফুলে-ফলে ভরে উঠেছে মদিনার খেজুর গাছ।


ভাগ্যবান তৃতীয় প্রজন্ম ,কোলে চড়েই পেয়ে গেলেন বাড়ীর বাগানে মদিনার খেজুর -বরিশাল নিউজ

মামুন জানান, মদিনার বিখ্যাত আজওয়া,মরিয়ম,আম্বারসহ তার বাগনে পাঁচ/সাতটি প্রজাতির খেজুর গাছ রয়েছে। এবার প্রথম ফলন বলে স্বাভাবিকভাবে কম ফল ধরেছে। তাতেও খুশি মামুন। বলেন, “খেজুর ছড়া দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে আমার”। সামনের বছরগুলোতে ফলন বেশী হবে এমন আশা তার। মামুনের খেজুর বাগানে ছোট ২৫০,বড় ৪০ আর ড্যাম আছে ৭০ টি।

গ্রামের যারা এতদিন মামুনের উদ্যোগকে পাগলামি বলে হেসেছিলেন,তারা এখন ফলন দেখে খুশি। দল বেধে মামুনের মদিনার খেজুর বাগান দেখতে যাচ্ছেন তারা।

মদিনার খেজুর বাগান দেখতে এলাকাবাসী-বরিশাল নিউজ

কৃষি বিভাগও খোঁজ খবর নিচ্ছে মামুনের খেজুর বাগানের। উজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.জাকির তালুকদার বললেন, “ আমাদের দেশের মাটি খেজুর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী তা প্রমান হলো।”

আরও পড়ুন : দেশে আরো ৪৬ জনের মৃত্যু


মামুনের গ্রামের এক তরুন আবুল কালাম বলেন, মামুনের বাগান দেখে তারও আগ্রহ বেড়েছে। সরকার সহযোগিতা করলে ব্যাপকভাবে খেজুর চাষ করতে চান তিনি। আরেক তরুন তুহিন মাহমুদ। এত কম সময়ে ফলন দেখে মদিনা খেজুর চাষ করে সাবলম্বি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি।

বরিশাল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার