শেবাচিম হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ডাক্তারসহ ৪ জনের মৃত্যু



বরিশাল নিউজ।।  বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার ডাক্তারসহ চার রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যু ডাক্তার হলেন, বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. এমদাদুল্লাহ খান (৫৮) । ডা. এমদাদুল্লাহ গত দু’দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভূগছিলেন। তাকে বৃহস্পতিবার ,১৮ জুন বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে তিনি শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে করোনার আইসিইউ ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার ,১৯ জুন বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
 

ডা. এমদাদুল্লাহ হকের স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক। তার বাসা বরিশাল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় আর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়। তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ১২তম ব্যাচে এমবিবিএস পাশ করেন।

এছাড়া মৃত্যু অন্যরা হলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানাধীন রায়পাশা এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের স্ত্রী শামীমা (৩৬)। ১৮ জুন তিনি হাসপাতালের সিসিইউ ওয়ার্ডে ভর্তি হন। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে শামীমাকে সিসিইউ থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে তাকে করোনা ওয়ার্ডে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে  দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে করোনা ওয়ার্ডের আইসিইউতে মৃত্যুবরণ করেন বরিশালের বাইশারী উপজেলার মৃত আরব আলী রাঢ়ীর ছেলে আ. বারেক (৫৫)। তিনি করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ১৪ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন।

এদিকে সকাল ৭টায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর এলাকার মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক (৬৬) করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি গত ১৭ জুন সকাল সোয়া ১০টায় শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন।

মৃত ব্যক্তিদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২১ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

বরিশাল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার