সমিতি গঠন; অত:পর টাকা নিয়ে উধাও

বন্ধন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম-বরিশাল নিউজ
          বন্ধন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন কথিত বন্ধন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কামারখালি ও চরামদ্দি বাজার এলাকার দুটি শাখার কয়েকশ লোক সমিতির মাধ্যমে এসব টাকা জমিয়েছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এই টাকা নিয়ে রফিকুল আত্মগোপন করেছেন। নিজেদের জমাকৃত টাকা ফেরত পেতে এখন তারা হন্যে হয়ে খুঁজছেন সমিতি প্রতিষ্ঠাতাকে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের মিরমদন গ্রামের বাসিন্দা ও মিরমদন হামিদীয়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান বেসরকারী আশা সমিতির মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন।

গত এক বছর আগে তিনি চাকরি ছেড়ে বন্ধন সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলার কামারখালি বাজার এবং চরামদ্দি বাজার এলাকায় বন্ধন সমিতির দুইটি শাখা ছিল। রফিকুল ওই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক।

গ্রাহকরা জানান, প্রতি লাখে মাসিক পনেরশ’ টাকা সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুইটি শাখার অর্ন্তভূক্ত কয়েকশ’ ব্যক্তির কাছ থেকে রফিকুল ইসলাম প্রায় দেড় কোটি টাকা জমা নিয়েছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ অধিক লাভের আশায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে রফিকুল ইসলামের বন্ধন সমিতিতে জমা করেন।

পরবর্তীতে কয়েক মাস গ্রাহকের লাভের টাকা পরিশোধ করেন রফিকুল। এরইমধ্যে গত এক সপ্তাহ আগে গ্রাহকরা বন্ধন সমিতির দুটি অফিসে তালা ঝুলানো দেখতে পান। সমিতির প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ পেয়ে দিশেহারা হয়ে পরেন গ্রাহকরা। পরবর্তীতে গত এক সপ্তাহেও তার কোন খোঁজ মেলেনি।

মিরমদন হামিদীয়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরু সিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতারিত গ্রাহকদের আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বরিশাল নিউজকে বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। গ্রাহকদের থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল নিউজ/শামীম