“ আমরাও যাবো কয়দিন পরে ”

প্রায় দেড় বছর পরে শিক্ষার্থীদের ফিরে পেয়ে শিক্ষকরা ছিলেন আনন্দিত। ঘন্টা বাজানো দপ্তরীর খুশিও ছিলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মতোই। বরিশাল নগরীর স্কুলে স্কুলে এই আনন্দ দেখে করোনা বিদায় নেবে এমন প্রার্থণা ছিলো সবার।

বরিশাল নগরীতে সকাল ৮টায় প্রভাতি শাখায় উপস্থিতি দিয়ে ক্লাস শুরু হয়েছে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (সদর গার্লস স্কুল)। পরিপাটি করে সাজানো ক্যাম্পাস দেখে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়,দারুন খুশি হয়েছেন তাদের বাবা-মায়েরাও।

স্কুলের প্রধানশিক্ষক মাহবুবা হোসেন বলেছেন,আমারা এই অবস্থাটা ধরে রাখতে চাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোড় দিয়েছেন তিনি।

স্কুলে প্রবেশের মুখে হাতধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত বেসিন রাখা, পতাকা দিয়ে ক্যাম্পাসকে আকর্ষনীয় করাসহ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা দেখে খুশি অভিভাবকরা।

করোনা আক্রান্ত প্রধানশিক্ষক

সদর গার্লস স্কুলের কাছেই সরকারি সিস্টারডে প্রাথমিক বিদ্যালয়। সকাল সাড়ে নয়টায় সেখানে ক্লাস শুরু হয়। স্কুলে গিয়ে দেখা যায়নি প্রধানশিক্ষক ও সহকারি প্রধানশিক্ষককে। খবর নিয়ে জানা গেল,তারা দুইজনই করোনা আক্রান্ত। অন্য শিক্ষকরা নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করেছেন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি পালনের কার্যক্রম। কেউ মাপছেন শরীরের তাপমাত্রা,আবার কেউ হাতধোয়া তদারকি করছেন।  

বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা সকাল নয়টায়। কিন্তু কলেজে আটটার মধ্যেই অনেক ছাত্রী এসে হাজির । এরকম তিনজনের সাথে কথা হয় এই প্রতিনিধির। তারা জানালেন দূরের গ্রাম থেকে আসতে হয়েছে বলে  আগেভাগেই আসতে হয়েছে তাদের। এদের মধ্যে দুইজন এসেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সার হাট থেকে । আর উজিরপুরের ধামুরা থেকে আসা পারভিনের সাথে এসেছেন তার মা ।

বরিশাল জাহানারা ইসরাইল স্কুল এন্ড কলেজের ক্লাস ওয়ানের ছাত্র নাজিন শাহরিয়ার ইসলাম। স্কুল খোলার খবরে দারুণ খুশি। ও শুনেছে ওদের স্কুলে বেলুন দিয়ে জন্মদিনের মতো করে সব সাজানো হয়েছে। এখন ওদের ক্লাস হবে না শুনে কিছুটা মন খারাপ নাজিনের। তবুও দৃঢ় কন্ঠে বললো, “আমরাও যাবো কয়দিন পরে। ”

বরিশাল নিউজ/ স্টাফ রিপোর্টার