‘আবার কয়, পকেটে স্লিপ আছে’

বরিশাল আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে ঝটিকা অভিযান চালান দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম -বরিশাল নিউজ

দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বরিশাল আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে । তাকে কাছে পেয়ে অভিযোগের অন্ত ছিলনা রোগী এবং তার স্বজনদের। এমন এক রোগীর স্বজন রাশিদা বেগম । তিনি বললেন, মানুষের কাছে শুনি সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন,ওষুধ সব সরকার দেয়। এজন্য সরকারি হাসপাতালে আসছি। কিন্তু কিছুই পাই নাই। আমরা গরীম মানুষ,তারপরেও বাহির থেকে সব কিনে আনতে হয়েছে।’


বরিশাল আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে রোগীর এটেনডেন্স মো. স্বপন মিয়া -বরিশাল নিউজ

রোগীর এটেনডেন্স মো. স্বপন মিয়া । তিনি জানালেন, বৃহস্পতিবার সকালে ভর্তি হয়ে বেলা ১২ টার মধ্যে পাঁচটি স্যালাইন কিনেছেন। এ সময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান,হাসপাতাল থেকে কয়টি স্যালাইন দিয়েছে ? মো. স্বপন মিয়া বললেন, ‘আবার কয়, পকেটে স্লিপ আছে । সিরিঞ্জও কিন্‌না আনছি।’
রোগীদের এই অভিযোগ পেয়ে হাসপাতালের কলেরা ওয়ার্ডের স্টোরে হানা দেন দুদক কমিশনার। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত স্যালাইন রোগীদের না দিয়ে স্টোরে মজুদ করে রাখার বিষয়টি দেখে তিনি অবাক হন। ওই রুমের টেবিল,চেয়র,খাটের উপরে,নিচে,আশেপাশে হাজার খানেক স্যালাইন প্যাকেট দেখতে পান তিনি। এ সময় স্টোর ইনচার্জকে স্টাফ নার্স মুনিরা ইয়াসমিন ভৎর্সনা করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এ ব্যাপারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, স্যালাইন কম থাকায় সিভিল সার্জনের নিদের্শ অনুযায়ী প্রত্যক রোগীকে প্রথম স্যালাইনটি হাসপাতাল থেকে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সে নির্দেশনা পালন না করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেন তিনি।


বরিশাল আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে স্টোরে স্তুপ স্যালাইন -বরিশাল নিউজ

রোগীদের স্যালাইন ও ওষুধ মজুদ করে রাখা প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম বলেছেন,ম্যানেজমেন্ট ও ডিস্ট্রিক্ট হেলথের এগুলো দেখার কথা কিন্তু দেখছেনা। তারা দুইজনই এজন্য দায়ী।তিনি বলেন, এই হাসপাতালে ওষুধের তো অভাব নেই । অথচ কী অমানবিক!এত ওষুধ পরে রয়েছে অথচ রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন এব্যাপারে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল নিউজ/এম এম হাসান