এমপি রিমনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনা নিউজ।। বরগুনা-০২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছেন প্রিয়াঙ্কা মিত্র নামের এক আইনজীবী।
অবৈধভাবে জমি দখল করার জন্য প্রিয়াঙ্কা মিত্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেন এমপি রিমন।

মামলায় আসামীরা হলেন-মো. রাকিব মুন্সি, মো. মনির হোসেন, শাহিন মুন্সি, জহির, শওকত হাচানুর রহমান রিমন, জাকির বিশ্বাস, মো. আতিকুর রহমান লাবু, মো.মাফুল, মো. আলাউদ্দিন খান, মিরাজ, মোস্তফা, রাজা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পাথরঘাটা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন অবস্থায় মন্দির ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগে প্রিয়াঙ্কা মিত্র নামের এই মামলা দায়ের করেছেন।
বরগুনার পাথরঘাটা সহকারী জজ আদালতে বুধবার এ মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী আরিফ হোসেন বলেন, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় প্রিয়াঙ্কা মিত্র নামের এক নারী আইনজীবীর পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড দখল করা চেষ্টা করছে। রেকর্ডিয় জমিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইচ গেট নির্মানের পায়তারা করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জমির সঠিক মালিকানা নির্ধারণের জন্য পাথরঘাটা সহকারী জজ আদালত বরগুনায় ১০৫/২০১৯ একটি চিরন্তন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মামলা দায়ের করা হয়। এসময় আদালতের বিচারক বিবাদীদের শোকজ ও জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর বিবাদীরা ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতে লিখিত আপত্তি ও বর্ণনাপত্র জমা দেন।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী আরিফ হোসেন বলেন, বরগুনার পাথরঘাটা উপেেজলার চরদুয়ানী এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার জন্য ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর পাথরঘাটা উপজেলা সহকারী জজ আদালতে ১০৫/২০১৯ একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করেন। একই সাথে লোকাল ইন্সপেকশন ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানান। আদালতের বিচারক আরিফ হোসেন বিবাদীদের শোকজ ও বাদি পক্ষের লোকাল ইন্সপেকশনের আবেদন মঞ্জুর করেন। বরগুনা জেলা বারের আইনজীবী হরিদাস বিম্বাস অ্যাড. কমিশনার হিসেবে পরিদর্শন শেষে তফসিলি জমি প্রিয়াঙ্কাদের এবং সেখানে তিনটি মন্দির রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের আইনজীবী খলিলুর রহমান আপত্তি পত্র দাখিল করেন। এসময় বাদি পক্ষের আইনজীবী তফসিলকৃত জমিতে একটি স্থিতি অবস্থা দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। আদালতের বিচারক স্থিতি অবস্থার আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন বিরোধীয় জমিতে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ার যতক্ষণ পর্যন্ত সরেজমিন পরির্দশন করে প্রতিবেদন না দিবেন ততক্ষন পর্যন্ত চায়না গ্রুপ এখানে কোন কাজ কর্ম করিতে পারিবে না। ২ জানুয়ারি বাদি পক্ষের আইনজীবী স্থিতি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন করেন। এরপর আদালতের বিচারক ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থিতি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় এবং যৌথ সার্ভেয়ার প্রতিবেদনের জন্য নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, স্থিতি অবস্থা চলাকালীন সময়ে ১২ জানুয়ারি বিরোধীয় জমিতে বরগুনা -২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এসময় প্রিয়াঙ্কা মিত্র স্থিতি অবস্থার আদেশের ফটোকপি দেখালে তারা তা ছিড়ে ফেলে দেয় তার পরিপ্রেক্ষিতে  আমরা বিজ্ঞ আদালতে ৫/২০২০ একটি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছি। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে নথিভুক্ত করেছেন।

অ্যাড. কমিশনার হরিদাস বিশ্বাস বলেন, ১২ জানুয়ারি আমরা ঘটনাস্থলে জমি পরিমাপ করতে গেলে স্থানীয় পেশি শক্তির প্রভাবে আমরা পরিমাপ করতে পারি নাই। জমি পরিমাপ করতে আইনী সহায়তা লাগবে । আদালত পুলিশ দেওয়ার জন্য মঞ্জুর করেছেন।

বাদি প্রিয়াঙ্কা মিত্র বলেন, আদালতের স্থিতি অবস্থায় থাকাকালীন সময় আমাদের জমিতে এসে এমপি রিমনের নেতৃত্বে আমাদের স্বপরিবারে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এসময় এমপি রিমন আমার জমির তদারকির দায়িত্বে থাকা তাইমূল ইসলাম নামের এক যুবককে মারধর সেই সাথে আমাকেও মারধর করেন। এসময় এমপির নির্দেশে আমাদের জমির উপর নির্মিত রাধাগোবিন্দ মন্দির উচ্ছেদ করে খালে ফেলে দেয় এমপির সন্ত্রাসীরা। আমি আদালতের মাধ্যমে আইনের আশ্রয় নিয়েছি আদালত নিশ্চই আমার সুবিচার নিশ্চিত করবে।

এবিষয়ে বরগুনা-০২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য প্রিয়াঙ্কা মিত্র অবৈধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে একটি টিনশেড ঘর তৈরি করে মন্দির নাম দিয়েছে। দুর্গা পুজা করার জন্য পুজা উদযাপন পরিষদের কাছ থেকে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলো সেটি এখনো বিদ্যমান রয়েছে। কোন মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। প্রিয়াঙ্কা মিত্র জমি দখল করার জন্য আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, যেখানে একটি  স্লুইজ গেট আগে থেকেই রয়েছে সেখানে নতুন স্লুভজ গেট নির্মান করতে গেলে তিনি বাঁধা দিয়ে আসছেন। খাল পারের জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিন দাবির প্রেক্ষিতে এখানে উন্নত মানের স্লুইজ গেট নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু তাদের অবৈধ স্থাপনার কারনে তা এখন বাঁধা গ্রস্ত হচ্ছে।
বরিশাল নিউজ/বরগুনা