শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দেখে হতবাক !

পাকিস্তান আমলে মৃত এবং ডাকাতের হামলায় নিহত ব্যক্তির নাম এবার শহিদ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় উঠেছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলায় এমন তালিকা নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই।

আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান বলেছেন, বারপাইকা গ্রামের আব্দুর রহমান শিকদারের ছেলে আব্দুল গফুর স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে কলেরায় মারা গেছেন। আব্দুল গফুরের সহপাঠি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোঃ সোহরাব উদ্দিন বলেন, আব্দুল গফুরের ডান হাতের কব্জি ছিলোনা। সে বাম হাত দিয়ে খাবার খেত। ১৯৬৮ সালে সে নিজ বাড়িতে বসে কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলার ১৬ জন তালিকাভুক্ত বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে কিভাবে অস্তিত্বহীন তিনজন এবং ’৬৮ সালে মৃত ব্যক্তির নাম শহীদ গেজেটে এসেছে তা সত্যি রহস্যজনক।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সুশান্ত বালা বলেন, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকায় নাম আসা চারজনের কবরস্থান সরকারিভাবে বাঁধাই করার তালিকা হাতে পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারি শহিদ আব্দুল মান্নান মোল্লা, শহিদ সামচুল হক মোল্লা, শহিদ তৈয়ব আলী বখতিয়ারের কবরস্থান তাদের বাড়ি কিংবা উপজেলার কোথাও নেই। তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বা তারপরে ওই তিনজনের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সমাজসেবা অফিসার আরও বলেন, শহীদ আব্দুল গফুরের কবরের সন্ধানে তার নিজ বাড়ি বারপাইকা গিয়ে জানতে পারি ১৯৬৮ সালে কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল গফুর মারা গেছেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হাশেম বলেন, অস্তিত্বহীন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের কীভাবে মন্ত্রণালয় তালিকা করেছে তা আমার জানা নেই। আমরা বিতর্কিত ব্যক্তি ও অস্তিত্বহীন কবরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট জমা দেবো। তারপর তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

অপরদিকে সড়কপথে দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম সম্মুখ যুদ্ধে গৌরনদীর সাউদেরখালপাড় নামক এলাকায় বসে শহিদ হওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঠৈ গ্রামের সৈয়দ আবুল হাসেম এর কবরস্থান সরকারিভাবে বাঁধাই করার তালিকায় স্থান পায়নি।

অথচ কখনও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, ডাকাতের হামলায় নিহত বাটাজোর গ্রামের সোনামদ্দিনের নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকায় এসেছে।

গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া তালিকার ভিত্তিতে গণপূর্ত বিভাগ দুই লাখ টাকা ব্যয়ে একেকটি কবরস্থান বা শ্মশান বাঁধাইয়ের কাজ বাস্তবায়ন করছে।

বরিশাল নিউজ/ স্টাফ রিপোর্টার