লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ, রিক্সা চালুর পক্ষে ডা.মনিষা

দেশব্যাপী চলমান সর্বাত্মক লকডাউনের সপ্তম দিনে বরিশাল নগরীতে লকডাউন কার্যকরে কঠোরভাবে মাঠে নেমেছে পুলিশ। সরকারি বিধি নিষেধ সর্বাত্মকভাবে পালনে বাধ্য করতে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে ও মোড়ে মোড়ে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও  ট্রাফিক পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখা গেছে। এদিকে রিক্সা চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ডা.মনিষা।

মঙ্গলবার(২০ এপ্রিল) ভোর ৬ টা থেকে বরিশাল নগরীর প্রবেশদ্বার রুপাতলী বাস টার্মিনাল ও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সহ দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট,কালিজিরা বাজার,গড়িয়ারপার এবং রহমতপুর এলাকার রামপট্রি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে পুলিশ ও মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের কঠোর তল্লাশি ও যানবাহন চলাচলে নজরদারি থাকায় বরিশাল নগরীর সড়কগুলো এক রকম জনশূন্য হয় পরে।

প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলেই পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাস্তায় পুলিশের টহল গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার, রিকসা, মোটরসাইকেলসহ জরুরি প্রয়াজনে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া তেমন বড় কোন যানবাহন দেখা যায়নি।

এ সময় উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার বলেন,মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার জনসাধারণকে রক্ষায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে।এ লকডাউন কার্যকর করতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক পথে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। আমরা লক্ষ্য করছি যে মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে ঘরের বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছে তাই আমাদের চেকপোস্ট গুলোতে তারা আটকা পরছে।

এদিকে সরকার ঘোষিত লগডাউনের সপ্তম দিনে বরিশাল নগরীর মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালনকালে দিন-মজুর শ্রমিকদের পায়েচালিত অতিরিক্ত রিক্সা বন্ধ করতে ২৫/৩০টি রিক্সার গদি খুলে নেয়া হয়। এ ঘটনায় রিক্সা শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শ্রমিক বন্ধু বাসদ নেতা ডাঃ মনিষা চক্রবর্তী। তিনি সার্জেন্ট সঞ্জিবের কাছে জানতে চান কেন রিক্সা আটক ও গদি খুলে নেয়া হয়েছে।এসময় ট্রাফিক সার্জেন্ট সঞ্জিবের সাথে মনিষা চক্রবর্তীর সাথে কিছুটা কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। সঞ্জিব বলেন তারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এবং নগরীতে লগডাউনে মধ্যে অতিরিক্ত রিক্সা চলাচল বেড়ে যাওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে এই অভিযান চালানো হয়।

এসময় মনিষা চক্রবর্তী বলেন আমরাও চাই লকডাউন গুরুত্ব সহকারে পালন করা হোক। সেখানে গরিব দিন-মজুর শ্রমিকদের পেটে লাথি দিয়ে নয়। ডা.মনিষার অভিযোগ তারা সাধারণ দিন মুজুরের রিক্সা আটক করে লগডাউন বাস্তবায়ন করছেন। অন্যদিকে যারা প্রাইভেট কার, মোটর সাইকেল নিয়ে অহরহ ঘোড়াফেরা করছেন তাদের গাড়ি আটকাতে দেখা যায়না।

এ সময় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে আটক রিক্সার গদিগুলো দিয়ে দেয়া হয়।  এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বরিশাল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার