নাজিরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ বন্ধ




পিরোজপুর নিউজ  ।। পিরোজপুরের নাজিরপুরে দু’মাস ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অসহায় পরিবার গুলা । ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নে।


জানা গেছে, মালিখালী ইউনিয়নের কার্ডধারীদের তালিকা প্রস্তুতে ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির নামে কার্ড ইস্যু, প্রাপ্ত ব্যক্তিদের চাল না দিয়ে কার্ড এনে অন্য মানুষ চাল উত্তোলনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ৩০ এপ্রিল ওই ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মো. শামীম গাজীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ জামানত বাজেয়াপ্ত এবং তার ডিলারশিপ বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ৯টি ইউনিয়নেরই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করার জন্য একটি কমিটি করা হয়। পাশাপাশি ওই ইউনিয়নে বিধি মোতাবেক নতুন ডিলার নিয়োগ করেন কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুয়ায়ী ৮টি ইউনিয়ন থেকে মৃত ব্যক্তি, সরকারি অন্যান্য সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে হালনাগাদ তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী গত দুই মাসে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুমন মণ্ডল মিঠুর নির্দেশনা অনুযায়ী এখনো তালিকা সরবরাহ না করায় গত দু’মাস ধরে সেখানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার কৃষ্ণ বসু বলেন, ”খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ পাওয়ার পরে আমি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে ১৫ মে চালে ডিও গ্রহণ করে গোডাউন থেকে চাল উত্তোলন করেছি। কিন্তু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে একাধিকবার মালিখালী ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগী কার্ডধারীদের তালিকা চাওয়া হলে তিনি এখনো আমাকে তালিকা সরবরাহ করতে না পারায় আমি চাল বিতরণ করতে পারছিনা।”


সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সুমন মণ্ডল মিঠু বলেন, ”যাচাই-বাচাইয়ের জন্য ইউএনও’র দেওয়া কমিটির সদস্যদের নিয়েই যাচাই-বাচাই করে অধিকাংশ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করে এক সপ্তাহ আগে অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।ওই তালিকা যদি যথাযথভাবে করা না হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ আমাকে কৈফিয়ত তলব করছে না কেন? কৈফিয়ত তলব করলে আমি তার জবাব দেব।”

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহনাজ পারভীন বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাচাই করে উপজেলার অন্য ৮টি ইউনিয়ন থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির হালনাগাদ তালিকা সরবরাহ হলেও মালিখালী ইউনিয়ন থেকে এখনো সঠিকভাবে তালিকা সরবরাহ করা হয়নি। তাই ডিলারকে তালিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর এ কারণে তিনি (ডিলার) চাল বিতরণ করতে পারেননি।

ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, মালিখালী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান সঠিকভাবে তালিকা জমা দেননি। তিনি বারবার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে সময় নিয়ে দেরি করছেন। তাই চাল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দুই এক দিনের মধ্যে তিনি তালিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বরিশাল নিউজ/পিরোজপুর