ঝালকাঠির রাজাপুরে নির্মাণ কাজ শুরুর চার বছর পরও চালু হয়নি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন। ফলে শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আতঙ্কে উপজেলাবাসী। এ উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন চালু না থাকায় পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি, কাউখালি, কাঠালিয়া ও ভান্ডারিয়ার ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই সবকিছু পুড়ে যায়।
ঝালকাঠি জেলার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা রাজাপুর। এ উপজেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপণা , দুইটি পেট্রোল পাম্প, বেশকিছু গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান, শতাধিক পেট্রোল বিক্রির দোকান, বেকারি-হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দীর্ঘদিনেও ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপন হয়নি। বিভিন্ন সময় অগ্নিকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয় কেন্দ্র ও বসতঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে নিস্ব হয়ে যায় মানুষ।
দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ পেয়ে উপজেলা সদরের অদূরে রাজাপুর ডিগ্রি কলেজের সামনের এলাকায় রাজাপুর ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের নির্মান কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু নির্মান সামগ্রীর মুল্য বৃদ্ধির ফলে বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়ে নির্মান কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করতে না পারায় কাজ শুরুর ৪ বছর অতিবাহিত হলেও ফায়ার ষ্টেশন চালু করা সম্ভব হয়নি। পুরো কাজ সম্পন্ন করতে আরও ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
২০১৭ সালের প্রথম দিকে রাজাপুর ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের জন্য বরাদ্ধকৃত একটি নতুন গাড়ি ও একটি পাম্প ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে এক বছর ধরে পরে আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কারও রাজাপুর ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন চালুর কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে রাজাপুরে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন না থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয় কেন্দ্র ও বসতঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে গেছে। কাছে ফায়ার সার্ভিস অফিস থাকলে এসব ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যেতো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

চার বছরেও চালু হয়নি রাজাপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন-বরিশাল নিউজ


দীর্ঘদিন ধরে রাজাপুরে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন না থাকায় বিভিন্ন অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষতির কথা স্বীকার করেন রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল। তিনি জানান, চলমান শুষ্কমৌসুমে ফায়ার সার্ভিস খুবই প্রয়োজন। দ্রুতই উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হবে এবঙ স্টেশনটি চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বরিশাল নিউজকে জানান, ২০১৭ সালের প্রথম দিকে রাজাপুরের জন্য বরাদ্ধকৃত একটি নতুন গাড়ি ও একটি পাম্প ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে এক বছর ধরে পরে আছে।
ঝালকাঠির গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ জানান, রাজাপুর ফায়ার ষ্টেশনের নির্মানের জন্য এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে নির্মাণ কাজ শুরু করলেও নির্মান সামগ্রির মুল্য বৃদ্ধির ফলে বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়ে নির্মান কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বাকি কাজ সম্পন্ন করতে আরো ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। এর জন্য চাহিদা পত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে কাজ সম্পন্ন করে হ্যান্ডওভার করা হবে।
বরিশাল নিউজ/আর রেজা