নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় মালালা ইউসুফজাঈ। টুইটার থেকে নেওয়া ছবি

জায়গাটির নাম মিংগোরা। এখানেই জন্মেছিলেন আর এখানেই খুলিতে তালেবান জঙ্গিদের গুলি খেয়ে মরতে বসেছিলেন মালালা। সেদিনের সেই কিশোরী আজ শান্তিতে নোবেলজয়ী, দুনিয়াজয়ী মালালা ইউসুফজাঈ।
পাকিস্তানের তালেবান জঙ্গিসঙ্কুল, প্রত্যন্ত পার্বত্য সোয়াত উপত্যকার মিংগোরায় শনিবার আবার পা রাখলেন মালালা।
মালালা ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামরিক হেলিকপ্টার মিংগোরায় মালালাদের বাড়ির কাছে অবতরণ করলো।
এরপর মালালা গেলেন শহরের ঠিক বাইরেই ছেলেদের একটা স্কুলে। উদ্দেশ্য, সেখানে স্থানীয় মানুষদের উপস্থিতিতে তার মূল্যবান বক্তব্য রাখা।
নিজদেশ পাকিস্তানে মাত্র চারটে দিন থাকবেন মালালা।
তার সঙ্গে এসেছেন মালালা ফান্ড গ্রুপের কর্মকর্তারা। এর মানে নিজের এলাকার মেয়েদের পড়াশুনার সুযোগ সৃষ্টি, সুযোগকে আরও বাড়ানোর ব্রত আছে তার।
২০১২ সাল। মালালার খুলিতে যারা গুলি করেছিল তারা আজ অবাক চোখে তাকে দেখছে! তারা হয়তো বুঝেছে, একটা শরীরকে গুলিতে ঝাঁঝরা করা যায় কিন্তু একটা আদর্শকে হত্যা করা যায় না।
মালালার আদর্শ আজ দুনিয়ার পড়তে-চাওয়া কিশোরীদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। মালালা হয়ে উঠেছে এক স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। নিষ্ঠা, ত্যাগ আর সাহস থাকলে যে সফলতার পর্বতচূড়ায় পৌঁছা যায়, সেটা মালালা দেখিয়েছেন। দৃষ্টি যখন ওই উঁচুতে, তখন তারে কে আর ঠেকায়! কেইবা তারে টেনে নামায়!
মালালার কারণেই, মালালার গুলিবিদ্ধ হবার কারণেই বুঝিবা এক সময়কার ভয়ঙ্কর বলে কথিত সোয়াত এলাকাটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। যদিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সেখানে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে। পাকিস্তান সরকার নিজের মুখরক্ষার জন্য হলেও এলাকাটির দিকে বাড়তি নজর দিয়েছে। মেয়েরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হারে, আগের চেয়ে কম ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে। শুধু মালালা কারণে।