মে ৬, ২০১৮

রিট: গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। ভোট গ্রহনের ৯ দিন আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিন মাসের জন্য এই নির্বাচনের সকল কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাতিল ও ছয়টি মৌজা অন্তর্ভূক্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারিকৃত সর্বশেষ গেজেট কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছে আদালত।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্থানীয় সরকার সচিবসহ নয় জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার পরই আপিল করা হবে কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে হাইকোর্টের আদেশের পরই সিটি নির্বাচনের সকল কার্যক্রম বন্ধের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেয় ইসি। ওই নির্দেশের পরই নির্বাচনী সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরই প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র কেনেন। নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরই নির্বাচনী প্রচারণায় ঝাপিয়ে পড়েন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থী। গাজীপুর ও টঙ্গীতে গত দুই সপ্তাহ ধরে নির্বাচনী প্রচারণা নেয় উত্সবের আমেজে। কিন্তু নির্বাচনী তফসিল স্থগিত হওয়ায় তাতে ভাটা পড়ে।

সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আজহারুল ইসলাম ওরফে সুরুজ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এই রিট করেন। রিটে ছয়টি মৌজা অন্তর্ভূক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের জারিকৃত গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। রিটে দাবি করা হয়, দক্ষিণ বারইবাড়ি, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, দক্ষিণ পানিশাইল এবং ডোমনাগ এই ৬টি মৌজা সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত। বেআইনিভাবে এসব মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারী এর আগেও ছয়টি মৌজা অন্তর্ভূক্তি নিয়ে হাইকোর্টে একাধিক রিট করেন। ২০১৫ সালে তার দায়েরকৃত রিটের ওপর এক আদেশে হাইকোর্ট আবেদনের বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দেয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর উক্ত ৬টি মৌজা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে চলতি বছরের ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ওই গেজেটে দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ৬টি মৌজার মধ্যে তিনটি মৌজা সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসুতি মৌজা সংলগ্ন। তিনটি মৌজার কতিপয় ব্যক্তি কলতাসুতি মৌজার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে সাভার উপজেলা হতে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা গ্রহন করে থাকেন। রিট আবেদনকারীর ভোটার তালিকায় তার ঠিকানা কলতাসুতি মর্মে উল্লেখ রয়েছে। এই ৬টি মৌজার বাসিন্দারা জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা হিসাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এসব মৌজার ভূমির নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম গাজীপুর জেলাতেই সম্পন্ন হয়। ফলে এসব মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত মর্মে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হল। এই গেজেট জারির পরই গত ৩ এপ্রিল নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে ইসি। পরে সীমানা সংক্রান্ত গেজেট এবং নির্বাচনী তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল এই রিট করা হয়।

সংবিধানের ১২৫(৩)(গ) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, “কোন আদালত, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হইয়াছে এইরূপ কোন নির্বাচনের বিষয়ে, নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া, অন্তর্বর্তী বা অন্য কোনরূপে কোন আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিবেন না।” কিন্তু কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, শুনানির জন্য তারা কোন নোটিশ পাননি। তবে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শুনানির সময় আদালত আমাকে ডেকে নেন। এরপর আমি শুনানিতে অংশ নিই।

শুনানিতে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী বিএম ইলিয়াস কচি বলেন, এক জেলা থেকে আরেক জেলার এলাকাসূমহ অন্তর্ভূক্ত বা কর্তনের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হয়। কিন্তু ঢাকা জেলার অন্তর্ভূক্ত এই ৬টি মৌজা ণগাজীপুর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোন প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়নি। ফলে ওই সিটি করপোরেশনে এসব মৌজা অন্তর্ভূক্ত করা বেআইনি। তিনি বলেন, এ ধরনের বেআইনি কর্মকান্ডের ফলে একটি জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। কারন ৬টি মৌজার ভোটাররা দ্বৈত নাগরিকত্ব ও দ্বৈত ভোটার হিসাবে চিহ্নিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে এসব এলাকার বাসিন্দাদের উপর গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পৃথক পৃথক কর আরোপ হবে। ফলে এরা হয়রানির সম্মুখীন হবেন। ফলে মৌজা সংক্রান্ত বিরোধ আইনগতভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করা হোক।

অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল আইন, বিধি ও দালিলিক তথ্যাদি পর্যালোচনা করে এই ৬টি মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত। সীমানা পুন:নির্ধারন নিয়ে হঠাত্ করে রিটকারী পক্ষ যে বিরোধের দাবি করছে তা মীমাংসিত বিষয়। মীমাংসিত বিষয় হওয়ার কারনেই নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছ। এ অবস্থায় রিট চলতে পারে না।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বলেন, সকল বিরোধ নিষ্পত্তি করেই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি নির্বাচন স্থগিত করে দেয়।

-ইত্তেফাক

Subscribe to the newsletter

Fames amet, amet elit nulla tellus, arcu.