রসায়ন বিষয়ে এমএসসি পাস করেও চাকুরি করেননি সুশান্ত সিকদার জয়। নিজে কিছু করার তাগিদ নিয়ে পুষ্টিকর খাবার মাশরুমকে সবার প্রিয় খাবারে পরিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন বরিশালের জয়।


জয়ের এই শুরুটা হয়েছিল এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে। পরীক্ষার পরের সময়টা কাজে লাগাতে একটি পণ্য জরিপ কোম্পানীতে কাজ ঢুকেছিলেন জয়। সেই থেকে মাশরুমের সাথে তার পরিচয়। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহন এবং প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ২০১৫ সালে পুরোপুরি নেমে পড়েন ব্যবসায়।
বরিশাল নগরীর ফুটপথের বিভিন্ন চপের দোকান ,চাইনিজ রেস্ট্রুরেন্ট এবং খাবার হোটেলে মাশরুম সরবরাহ করে ভালো সাড়া পান ।এরপর শুরু হয় ডোর টু ডোর মাশরুম সরবরাহ। দোকানের চেয়ে কম দামে মাশরুম পেয়ে ক্রেতাও বাড়তে থাকে তার। এখন দোকানে সরবরাহের পাশাপাশি বরিশালের বাইরে ভোলা,পটুয়াখালীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় মাশরুম যাচ্ছে জয়ের ফার্ম থেকে। মাশরুমের জন্য এই ফার্ম তৈরী হচ্ছে মাটির ঘরে বাশ,ধানের নাড়া,গোলপাতার  উপাদান দিয়ে।


জয় বলেন,বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত কেজি মাশরুম উৎপাদন হচ্ছে। জানুয়ারি মাস থেকে আরও বেশী মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া প্রধান সড়কে ‘ন্যাপ মাশরুম ফার্ম এন্ড রির্সোস সেন্টার ’ গড়ে তুলেছেন তিনি। জয়ের ইচ্ছা প্রতিদিন একশ কেজি মাশরুম উৎপাদন করার। বিদেশে রপ্তানি করারও আশা আছে তার।
জয় শুধু মাশরুম উৎপাদন করেই থেমে নেই। অন্যদেরও মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন। ঢাকার সাভার থেকে বীজ এনে নতুন এবং সৌখিন চাষীদের কাছে বিক্রি করছেন। এছাড়া তার রিসার্স সেন্টারে টিস্যু কালচার করে মাশরুমের ভ্যারাইটি বের করছেন।


বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফার্মের সমস্ত কাজ নিজ হাতে করেন তারা।
বাসার বারান্দা থেকে একটু একটু করে জয়ের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, কোন ব্যাংক লোন ছাড়াই তা এখন ১০ লাখ টাকার সম্পদে পরিনত হয়েছে।
জয় জানান,মাশরুম একটি নতুন ধারণা। মাশরুম সম্পর্কে অনেকে জানতো না। এখন চপের দোকান বিশেষ করে আড্ডাস্থল বরিশালের বিবির পুকুরের পাড়, চৌমাথা লেকের পাড়,বিএম কলেজের সামনে,রাখাল বাবুর পুকুর পাড়,কালিবাড়ী রোড,নতুন বাজারের চপের দোকানগুলোতে মাশরুমি নামে প্রচুর মাশরুমের চপ বিক্রি হচ্ছে।
জয় আরো জানান, বাজার সৃষ্টি করা খুই পরিশ্রমের কাজ। তাই চ্যালেঞ্জ ছিল।
মাশরুমে আগ্রহ বাড়ানোর জন্য জেলায় জেলায় সরকারের হটিকালচার সেন্টারের প্রজেক্ট রয়েছে জানিয়ে জয় বলেন- টিস্যু কালচার,মাদার উৎপাদন,বানিজ্যিক স্পন ,চাষঘর পর্যায় পার হয়ে বাজারজাত করণ পর্যন্ত কাজগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে করতে পারলে মাশরুমের উৎপাদন আরো সমপ্রসারিত হতো।

মাশরুম চাষের পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের কথা ভাবছেন তিনি। এ নিয়ে বিশেষ বাজার গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তার। প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক পণ্য তিনি পৌছেঁ দিতে চান সবার কাছে।

-বরিশাল নিউজ/এম এম হাসান