জুন ৩, ২০১৮

যুবদলের কমিটি :ভোলা-বরগুনায় তুলকালাম

বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। ভোলা যুবদলের নতুন নেতৃত্বের নাম শোনার পর দলীয় বিরোধ মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। জেলা যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা গতকাল শনিবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ হয়ে জেলা বিএনপি ও যুবদল কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এ সময় কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে ভোলায় অবাঞ্ছিত করে বিএনপির সব কার্যক্রম প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে একপক্ষের নেতাকর্মীরা। পরে জুতা মেরে যুবদলের কেন্দ্রীয় দুই নেতার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে গঠনতন্ত্র মেনে ভোলায় ফের কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।
এদিকে বরগুনা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছে যুবদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে পালিয়ে যায় ভাঙচুরকারীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে ভোলায় দুই পক্ষে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ কাউন্সিল ছাড়াই গত শুক্রবার কেন্দ্র থেকে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে জামালউদ্দিন লিটনকে সভাপতি, আবদুল কাদের সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক, মনির হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মোস্তফা কামাল ও জিয়াউর রহমান পলাশকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়।
শনিবার এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোলা যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পদবঞ্চিত যুবদলের নেতা সাবেক আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম কায়েদ ও সদস্যসচিব কবির হোসেনের নেতৃত্বে দুপুরে শহরের মহাজনপট্টির জেলা যুবদলের বন্ধ কার্যালয়ে তালার ওপর তালা দেওয়া হয়। পরে জেলা বিএনপির কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দেন যুবদলের পদবঞ্চিত নেতারা। একপর্যায়ে তারা জুতা হাতে বিক্ষোভ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নুর ইসলাম নয়নের কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়ে তাঁদের ভোলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, ‘কমিটি গঠন হবে সম্মেলনের মাধ্যমে। উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটির সভাপতি-সম্পাদক ভোট দিয়ে জেলা কমিটি গঠন করবেন। কিন্তু তা হয়নি। গত শুক্রবার ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় কমিটি যুবদলের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ঢাকায় বসে ভোলা যুবদলের কমিটি গঠন করেছে। সেখানে পাঁচজনের তিনজনই জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে রয়েছে।’

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ কমিটি আমরা মানি না। জেলা বিএনপিও মানে না। তারই প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ করেছি। যুবদল ও বিএনপি কার্যালয়ে তালা মেরেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘জেলা যুবদলের প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে বিএনপির আদর্শ থেকে পদত্যাগ করে। এমনকি বিএনপির কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।’

কবির হোসেন বলেন, সভাপতি করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চেয়েছে। দিতে পারেননি বলে কমিটিতে স্থান পাননি।

জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি অফিসে তালা দিয়েছে সত্য। আমি পরিস্থিতি কেন্দ্রে জানিয়েছি। আমার সঙ্গে কোনো আলাপ না করে যুবদলের কমিটি করা হয়েছে। আমি কথা বলে সমঝোতার চেষ্টা করছি।’

নতুন ঘোষিত যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন বলেন, ‘যুবদল একটি বড় সংগঠন। যারা পদ পায়নি তাদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’

সাবেক জেলা যুবদল সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন বলেন, ‘যারা বিরোধিতা করছে, তারা সংখ্যায় বেশি নয়।’

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন জানান, কাউন্সিল করার পরিস্থিতি ছিল না। শুধু ভোলায় নয়, আরো ৩০ জেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। পদপ্রত্যাশীরা ক্ষোভে-দুঃখে এসব আচরণ করছে। তবে তাদের কাছে রাজনৈতিক আচরণ আশা করেন তিতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বরগুনাসহ প্রায় ৩০টি জেলার যুবদলের কমিটি ঘোষিত হয়। বরগুনা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান জাহিদ মোল্লাকে সভাপতি ও জাবেদুল ইসলাম জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। একাধিক নেতা জানান, কমিটিতে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার ভাই কামরুজ্জামান জাহিদ ওরফে জাহিদ মোল্লাকে সভাপতি এবং ভাতিজা জাবেদুল ইসলাম জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করায় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়।

জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি তালিমুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘আত্মীয়করণের মাধ্যমে নতুন কমিটি হওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপি অফিসে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। তবে কে বা কারা ভাঙচুর করেছে জানি না।’

Subscribe to the newsletter

Fames amet, amet elit nulla tellus, arcu.