বানারীপাড়ায় ছেলে হত্যার অভিযোগে শাশুড়ির নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অপরাধে বাদীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বরিশাল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. গোলাম ফারুক । হয়রাণিমূলক হত্যা মামলা দায়ের করে আদালতের সময় নষ্ট করার অভিযোগ এনে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন তিনি।
আদালতের বিচারক মো.মারুফ আহম্মেদ মামলাটি আমলে নিয়ে প্রত্যেককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্তরা হলেন নগরীর কাটপট্টি সড়ক এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী সহকারী হুমায়ুন কবির,তার মেয়ে বাদী তানজিলা,মামলার স্বাক্ষী পটুয়াখালী জেলার মৌকরন গ্রামের কাজী এনামুল হক,মুন্সিগঞ্জের মধ্য বাউশিয়া গ্রামের সোহেল সরকার, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ার গুনিয়াউক গ্রামের ইশতিয়াক আহম্মেদ ও ময়মনসিং জেলার ফুলবাড়িয়া থানার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের ে আব্দুর রহমান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর তানজিলা তার স্বামী ওমর ফারুক বাবুকে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে হত্যার মিথ্যা অভিযোগে তার শাশুড়ি সহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয় জনকে অজ্ঞাতনামা আসামীও করা হয়। মামলাটি ওই সময় বানারীপাড়া থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ হোসেন মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৯ মার্চ আদালত থেকে এজাহারকারীকে নোটিশ দিয়ে ১৫ এপ্রিল মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করা হয়। ওই তারিখে মামলার বাদী তানজিলা আদালতে হাজির হন।
বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন তার দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক বাবু নেশাগ্রস্থ ছিলেন। সে তার মা ফেরদৌসি পারভীন রানুর একমাত্র পুত্র হওয়ায় মাদকাসক্ত থেকে ছেলেকে মুক্ত করতে ঢাকায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র রিহ্যাবে রাখা সহ সব ধরণের চেষ্টা করেন। তদন্ত রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয় অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারনেই বাবুর মৃত্যু হয়। তারপরও তানজিলা মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার বাবা হুমায়ুন কবির ও অন্যদের সহযোগিতায় স্বামী ওমর ফারুক বাবুর মা ফেরদৌসি পারভিন রানু,বোন রেশমা ,ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম ও মামা বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্র্বপের দপ্তর সম্পাদক ও বরিশাল- বানারীপাড়া-স্বর্বপকাঠি সড়কের লাইন সেক্রেটারী জগললু হাওলাদারকে নিছক হয়রাণি করার উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন।সত্য গোপন করে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে আদালতের সময় নষ্ট করার অপরাধে বিচারক নিজেই বাদী হয়ে ওই মিথ্যা মামলার বাদী সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
বরিশাল নিউজ/রাহাদ