বাল্যবিয়ে কমিয়ে আনার প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট।
২০২১ সালের মধ্যে কীভাবে ১৫ বছর বয়সে বিয়ে ‘শুন্যে’ এবং ১৫-১৮ বছর বয়সে বিয়ে ‘এক তৃতীয়াংশ’ করার ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে বরিশালে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার প্রত্যেক উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধকারী এই কর্মসূচী বাস্তবায়ন শুরু হবে চলতি মে মাস থেকেই।
এই উপলক্ষে বরিশাল সার্কিট হাউসে মঙ্গলবার বাল্য বিবাহ নিরোধে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ঠদের অংশগ্রহনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড.গওহর রিজভী। প্রফেসর ড.গওহর রিজভী বলেছেন,‘ প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখিয়েছেন,আমরা কোথায় আছি,কোথায় যাবো। ’ আমাদের হাতে সময় কম জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গ্রামে অনেক লিমিটেশন্স থাকে,যে কারনে বাবা-মা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। সেই সব লিমিটেশন্স দূর করতে হবে। সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে এই সফলতা সম্ভব বলেন তিনি।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান।
গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট এর মহাপরিচালক মো. আবদুল হালিম জানান, দেশে কাজী ও পুরোহিতসহ ৭২ হাজার বিয়ে সম্পাদনকারী রয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারলে টার্গেট পূরণ সহজ হয়ে যাবে বলেন তিনি। তিনি আরো জানান প্রত্যেক উপজেলায় বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য সাতজন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। অথচ সব দায় সামলাতে হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।
তাই তিনি চলতি মে মাসের মধ্যেই প্রতি উপজেলায় সংশ্লিষ্ঠদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি জানান,এই মে মাসের মধ্যেই প্রশিক্ষণের কাজ শেষ করতে হবে। এইজন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে বাজেট পাঠানো হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক।
কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানান,তারা বিয়ে বন্ধ করলেও অনেকে আবার নোটারি পাবলিকের কাছে এফিডেফিট করে বিয়ে করছে। তারা নোটারি পাবলিককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, নোটারি পাবলিকের কাছে বিয়ে অবৈধ। আইন মন্ত্রণালয় থেকে জেলা জজদের এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল নিউজ/এমএম হাসান