জানুয়ারি ১৫, ২০১৮

বাংলাদেশের যুবাদের দ্বিতীয় জয়

লিংকন, ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ (বাসস) : তৌহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি পর বল হাতে আফিফ হোসেনের বোলিং নৈপুন্যে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ বাংলাদেশ ৬৬ রানে হারিয়েছে কানাডাকে। হৃদয়ের ১২২ রানের কল্যাণে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৪ রান করে বাংলাদেশের যুবারা। জবাবে আফিফের ৫ উইকেট শিকারে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় কানাডা।
লিংকনে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১ রানে ওপেনার পিনাক ঘোষকে হারায় তারা। শুন্য হাতে ফিরেন পিনাক। এরপর তিন নম্বরে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক সাইফ হাসানও। ২০ বলে ১৭ রান করেন তিনি। ২৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও হৃদয়।
তৃতীয় উইকেটে ভালোই জমে উঠেছিলো নাইম ও হৃদয়ের জুটি। কিন্তু নাইমের ভুলে দলীয় ৯১ রানে বিচ্ছিন্ন হয় জুটিটি। ৫টি চারে ৬৭ বলে ৪৭ রান করেন ফিরেন নাইম। এরপর দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান হৃদয় ও পাঁচ নম্বরে নামা আফিফ। দু’জনের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুন্যে বাংলাদেশের স্কোর দুইশ রানের কোটা অতিক্রম করে।
কিন্তু এরপরই বিচ্ছিন্ন হন হৃদয় ও আফিফ। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৯ বলে ৫০ রানে থামেন আফিফ। এই জুটির কাছ থেকে বাংলাদেশ পায় ১১১ রান। আফিফ বিদায় নিলেও, এক প্রান্ত আগলে রাখেন হৃদয়। ইনিংসের শেষ বলে আউট হবার আগে সেঞ্চুরি তুলে ১২২ রানে থামেন বগুড়ার ছেলে হৃদয়। ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ১২৬ নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৬৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
জবাবে ভালো শুরুর চেষ্টা করেছিলো কানাডা। কিন্তু আফিফের ঘুর্ণিতে পড়ে দলীয় ৭৮ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার। তারপরও অধিনায়ক আরসলান খানের ব্যাটিং-এ লড়াইয়ে টিকে ছিলো কানাডা। তবে কানাডার শেষ ভরসাকেও তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেন আফিফ। ৬৩ রান করেন আরসলান। পরের দিকে আর কোন ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে না পারায় ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় কানাডা। বাংলাদেশের আফিফ ৪২ রানে ৫ উইকেট নেন। এছাড়া হাসান মাহমুদ ২ উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা হয়েছেন আফিফ। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৮৭ রানে নামিবিয়াকে হারিয়েছিলো বাংলাদেশের যুবারা।
এ দিন ‘সি’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে হারিয়েছে নামিবিয়াকে। কুইন্সটাউনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট হাতে নেমে ৯ উইকেটে ১৯৬ রান করে নামিবিয়া। জবাবে ১৫৫ বল বাকী রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। এবারের আসরে এটিই ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ ছিলো। আগামী ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে ইংলিশরা। ঐ ম্যাচটিই হবে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ।

জয় দিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপ
এর আগে ১৩ জানুয়ারি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ১২তম আসরে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন ‘সি’ গ্রুপে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশ ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নামিবিয়াকে। বৃষ্টির কারণে ৫০ ওভারের ম্যাচটি নির্ধারিত হয় ২০ ওভারে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশের যুবারা। জবাবে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১০৩ রান করতে সমর্থ হয় নামিবিয়া। দিনের অন্য ম্যাচে আফগানিস্তান ৫ উইকেটে পাকিস্তানকে, জিম্বাবুয়ে ১০ উইকেটে পাপুয়া নিউ গিনিকে এবং স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে।
লিংকনে টস হেরে প্রথম ব্যাট হাতে মারমুখী মেজাজে শুরু করে বাংলাদেশের যুবারা। ৪ ওভারে ৩৩ রান যোগ করেন দুই ওপেনার পিনাক ঘোষ ও মোহাম্মদ নাইম। ৪টি চারে ১৭ বলে ২৬ রান করে ফিরেন পিনাক।
পিনাকের বিদায়টা আমলে নেননি নাইম ও তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক সাইফ হোসেন। নামিবিয়ার বোলারদের বিপক্ষে নিজেদের মারমুখী মেজাজ অব্যাহত রাখেন নাইম ও সাইফ। এতে ১২ ওভারেই শতরানের কোটা স্পর্শ করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত এই জুটি বিচ্ছিন্ন হন ১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে। এসময় বাংলাদেশের রান ১৩০। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৩ বলে ৬০ রান তুলে আউট হন নাইম।
তবে অন্য প্রান্তে ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন সাইফ। চার নম্বরে নামা আফিফ হোসেন খুব বেশিক্ষণ সাইফকে সঙ্গ দিতে পারেননি। ১২ বলে ১১ রান করে ফিরেন তিনি। তবে সাইফের বিধ্বংসী ব্যাটিং ছিলো শেষ পর্যন্ত। ইনিংসের শেষ বলে আউট হবার আগে ৪৮ বলে ৮৪ রান করেন সাইফ। তার ইনিংসে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা ছিলো। সাইফের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৪ উইকেটে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ১৯১ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে নামিবিয়া। স্কোর বোর্ডে ১২ রান উঠতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এরপর দলের হাল ধরেন নামিবিয়ার মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান এবিন ভ্যান উইক। ৫২ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু অন্য কোন ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে না পারলে ৬ উইকেটে ১০৩ রানের বেশি করতে পারেনি নামিবিয়া। বাংলাদেশের দুই পেসার কাজি অনিক ও হাসান মাহমুদ ২টি করে উইকেট নেন। এছাড়া তৌহিদ হৃদয় ১টি করে উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা হন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাইফ হাসান।
আগামী ১৫ জানুয়ারি কানাডার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশের যুবারা।
বাংলাদেশ-নামিবিয়ার ম্যাচটি ছিলো উদ্বোধনী দিনের তৃতীয় ম্যাচ। ‘ডি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে আফগানিস্তান। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। আফগান বোলারদের নৈপুন্যে ১৪ বল হাতে রেখেই ১৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দলের পক্ষে ওপেনার ও উইকেটরক্ষক রোহাইল নাজির ৮১, আলি জারইয়াব আসিফ ৩০ ও মোহাম্মদ তাহা ১৭ রান করেন। আফগানিস্তানের আজমতুল্লাহ ওমারজাই ও কাইস আহমেদ ৩টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ডান-হাতি ব্যাটসম্যান ডারউইশ রাসোলির ৭৮ বলে অপরাজিত ৭৬ রানের কল্যাণে ১৫ বল বাকি রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় আফগানিস্তান। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান ম্যাচের সেরা রাসোলি। এছাড়া উইকেটরক্ষক ইকরাম আলি খিল ৪৬ ও রহমনুল্লাহ গুরবাজ ৩১ রান করেন।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং-এ নেমে ৯৫ রানেই গুটিয়ে যায় পাপুয়া নিউগিনি। ১৪ ওভারে বিনা উইকেটে সেই রান টপকে যায় জিম্বাবুয়ে।
দিনের চতুর্থ ম্যাচটি ছিলো দু’টি বড় দলের। ‘এ’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং-এ নামে নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং-এ ৮ উইকেটে ২৩৩ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার নৈপুণ্যেই লড়াই করার পুঁজি পায় ক্যারিবীয়রা। কারণ উদ্বোধনী জুটিতে ১২৩ রান যোগ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার কিগান সিমন্স ও কিমানি মিলিয়াস। তাদের পর পরের দিকে আর কোন বড় জুটিই গড়তে পারেনি দলের ব্যাটসম্যানরা। মিলিয়াস ৭৮ রানে ফিরলেও ১৩২ বলে ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন সিমন্স।
জবাবে ফিন অ্যালেনের ১০০ বলে অপরাজিত ১১৫ ও জ্যাকব ভুলার ৮৩ রানে ৬৩ বল হাতে এবারের বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করে নিউজিল্যান্ড।

Subscribe to the newsletter

Fames amet, amet elit nulla tellus, arcu.