জানুয়ারি ৪, ২০১৮

প্রথম দিনেই মন্ত্রী জব্বারের সই পেল ঝুলে থাকা ২ নীতিমালা

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এসে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা টেলিযোগাযোগ খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার।

মোবাইল টাওয়ার কোম্পানির লাইসেন্স দিতে নিলামে যাচ্ছে সরকার

টেলিযোগাযোগে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স এবং ইন্টারকানেকশন এক্সচেইঞ্জ বা আইসিএক্স নীতিমালা সংশোধনীর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রথম অফিস করেন উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে নেতৃত্বশীল ভূমিকা রাখা মোস্তাফা জব্বার।

প্রথম দিনেই দুই নীতিমালা অনুমোদন দিয়ে তিনি সন্ধ্যায় বলেন, “আমি লাকি এগুলোতে সই করতে পারলাম, যা প্রধানমন্ত্রী সই করত।”

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স নীতিমালা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “অপারেটররা যত্রতত্র যেভাবে খুশি টাওয়ার তৈরি করছে, এক ভবনে পাঁচ থেকে ছয়টি টাওয়ারও হচ্ছে। এগুলো ক্ষতিকর। টাওয়ার শেয়ারিং চমৎকার বিষয়, কোম্পানিগুলোর নিজেদের অবকাঠামো তৈরি করতে হবে না। আমি ধন্যবাদ দেই বিটিআরসিকে, তারা এ ইতিবাচক কাজ করেছে।”

মন্ত্রী জানান, টাওয়ার শেয়ারিংয়ের জন্য চারটি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

“এর একটি বর্তমানে রয়েছে (ইডটকো), সেটাকে গাইডলাইনের আওতায় আনা হবে। বাকি তিনটি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে নিলাম হবে।”

এ নীতিমালা চূড়ান্ত করতে ২০১৬ সালে খসড়া টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়েছিল বিটিআরসি।

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকসহ ছয়টি অপারেটরের মোবাইল ফোনের টাওয়ারের সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজারের বেশি।

বিটিআরসি সচিব সরওয়ার আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ নীতিমালা অনুয়ায়ী, মোবাইল অপারেটররা কেউ এই নিলামে অংশ নিতে পারবে না, নতুন কেউ আসবে।

এছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী এগুলো আলাদা কোম্পানি হবে। অপারেটরদের টাওয়ার এদের কাছে লিজ বা বিক্রি করা হবে পারস্পরিক সমঝোতায়। অপারেটররা ইচ্ছা করলেই পারস্পরিক টাওয়ার শেয়ার করতে পারবে না, থার্ড পার্টি বা টাওয়ার কোম্পানি তা করবে।

৫০ কোটি টাকা দিয়ে এ লাইসেন্স নিতে হবে, বার্ষিক নবায়ন ফি থাকবে ৫ কোটি টাকা এবং সরকারের সাথে রাজস্ব ভাগাভাগি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে।

এছাড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া আইসিএক্স নীতিমালা (সংশোধন) নিয়ে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, আইসিএক্সে সরকারের সাথে রাজস্ব ভাগাভাগি ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে নামানো হয়েছে।

বিটিআরসি সচিব সরওয়ার আলম জানান, আইসিএক্সগুলোর দীর্ঘদিনের এ দাবি পূরণ হওয়ায় সরকারের বকেয়া আদায় এ সিদ্ধান্তের ফলে সুবিধা হবে।

ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) মাধ্যমে বাইরের প্রতিটি কল দেশে প্রবেশের পর আইসিএক্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে পৌঁছায়। অপারেটর গ্রাহকের ফোনে কল সংযোগ দেয়।

আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানে বিভিন্ন হারে সরকারকে রাজস্ব দিতে হয় আইসিএক্সকে। স্থানীয়ভাবে একটি কলের ক্ষেত্রেও এক অপারেটর থেকে আরেক অপারেটরে সংযোগ দিয়ে থাকে আইসিএক্স অপারেটররা।

স্থানীয় কলে (ডমিস্টিক ইন ও আউট) প্রতি মিনিটে আইসিএক্সগুলো ৪ পয়সা করে পেয়ে থাকে। এই ৪ পয়সার ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়।

বর্তমানে দেশে আইসিএক্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৬টি। এর মধ্যে ২০১২ সালেই লাইসেন্স পেয়েছে ২৩টি প্রতিষ্ঠান।

বাজার যাচাই না করেই অতিরিক্ত লাইসেন্স দেওয়ায় ব্যবসা নিয়ে সমস্যায় পড়ার অভিযোগ করে আসছিলেন অপারেটররা।

চিঠি এলো বাংলায়

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার বিকালে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ইংরেজিতে চিঠি পাঠানো নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন মোস্তফা জব্বার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার ছাত্র ও বিজয় বাংলা কিবোর্ডের প্রবর্তক মোস্তফা জব্বার বাংলায় এসব চিঠি প্রত্যাশা করেন।

প্রথম দিনে অফিসে যেসব চিঠি এসেছে, সেগুলো বাংলায় এসেছে বলে জানালেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি যে দুটি চিঠি দিয়েছে, সেগুলো বাংলায় লেখা।
-বিডিনিউজ২৪

Subscribe to the newsletter

Fames amet, amet elit nulla tellus, arcu.