মার্চ ২০, ২০১৮

পায়রা সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো ব্যয় বাড়ল

পায়রা সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো ব্যয় বেড়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। যা মূল বরাদ্দের দ্বিগুণ। পায়রা সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রথম সংশোধনী প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার একনেক সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সভা শেষে পরিকল্পমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু যেমন স্বপ্নের প্রকল্প তেমনি পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরও। এটা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প। এ প্রকল্পে ৬০৫৯ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণবাসনে ৪৯৩.০৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের অংশ হিসেবে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। যার পুরোটাই সরকারের (জিওবি)। পায়রা সমুদ্রবন্দর পূর্ণ উদ্যমে চালুকরণ এবং আমদানি-রফতানি পণ্যের অবাধ পরিবহনের লক্ষ্যে একটি প্রশাসনিক ভবন, ওয়্যার হাউস নির্মাণসহ পাইলট বোট, টাগ বোট, বয়া লেইয়িং ভেসেল, সার্ভে বোট এবং নিরাপত্তা যন্ত্র সামগ্রী সংগ্রহ এবং বন্দর টার্মিনাল থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী- কুয়াকাটা ভারতীয় মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, পায়রা বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ শেষে বাকি থাকবে সমুদ্র ড্রেজিং। এর জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হবে।
প্রকল্পের পটভূমিতে জানা গেছে- ২৯ অক্টোবর ২০১৫ সালের একনেক সভায় এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পায়রা বন্দর প্রথম অনুমোদন দেয়া হয়। বর্তমানে ১৬ একর জমির উপর সীমিত ভৌত অবকাঠামো সুবিধাদি যেমন –পল্টুন, ক্রেইন, নিরাপত্তা ভবন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা উন্ননের মাধ্যমে একটি বন্দর টার্মিনাল তৈরি হলেও এখনও নিয়মিতভাবে পণ্য উঠা-নামা ও খালাস করা হচ্ছে না। তবে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে না উঠা পর্যন্ত বহিঃনোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজ আনয়নের মাধ্যমে ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত পায়রা বন্দর দেশের তৃতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম সামুদ্রিক বন্দর। অবস্থানগত কারণে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-জাগো নিউজ

Subscribe to the newsletter

Fames amet, amet elit nulla tellus, arcu.