বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এখন আবার নতুন বুদ্ধি এঁটে নতুন কমিশন দিয়ে ভোট চুরির চিন্তা করছে।

মির্জা ফকরুল বলেন, এই হাসিনা সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন করার দাবি জানান তিনি।

বরিশালে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শনিবার বিকালে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ প্রধান অতিথি মির্জা ফকরুল মাত্র ১০ মিনিট বক্তৃতা করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপি আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ আজ বর্গীর রূপ নিয়েছে। এ থেকে আমরা মুক্তি চাই, পরিত্রাণ চাই। আমাদের এই আন্দোলন বিএনপির জন্য নয়; খালেদা জিয়ার জন্য নয়; তারেক রহমানের জন্য নয় কিংবা আমাদের নেতাদের জন্য নয়। এ আন্দোলন জাতি ও দেশের প্রয়োজনে সমগ্র জাতিকে রক্ষা করার জন্য।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবেনা। তাই এই সরকারকে আগে বিদায় জানাতে হবে। এই নির্বাচন কমিশন নিজেদের ভালো দেখানোর জন্য কৌশল নিয়েছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফকরুল বলেন, আমাদের সামনে কঠোর আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। গণঅভুত্থানে নিশিরাতের এ সরকারকে বিদায় জানাতে হবে। আমারা দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে চাই। যার ফয়সালা হবে রাজপথে।

ফকরুল আরো বলেন, সড়ক ও নৌপথের সবধরনের যোগাযোগ বন্ধ করার পরেও বরিশালের বিভাগীয় সমাবেশ আজ গণসমাবেশে রূপ নিয়েছে। সরকার যখন বুঝতে পেরেছে জনতার ঢল ঠেকানো যাবে না। তখন শুধু ভয় দেখিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা সারাদেশের সাথে বরিশালকে বিচ্ছিন্ন করে দুইদিনের ‘হরতাল’ ডেকেছে। অনতিবিলম্বে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসবেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

সমাবেশের প্রধান বক্তা বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস  নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা যে এতো বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে জনসমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিয়েছেন তাতেই প্রমাণ হয়েছে বিএনপির প্রতি, দেশের প্রতি আপনাদের ভালবাসা কতোটা। তিনি বরিশাল নগরীকে জনসভার শহর, মিছিলের শহর বলে মন্তব্য করে বলেন, এখানে এসে দেখলাম ফোনে কথা বলতে পারছি না। ইন্টারনেট বন্ধ। তাই লাইভ টেলিকাস্ট নাই। রাজপথ ও নৌপথ বন্ধ। তারপরেও আজ গোটা বরিশাল শহর জনসভার শহর, মিছিলের শহর। তাহলে সব বন্ধ করে কি লাভ হলো। সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে বরিশালে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।

তিনি আরও বলেন, এ সরকারকে বিদায় জানাতে হবে ভোটের মাধ্যমে। না হলে দেশের আর কিছু বাকি থাকবে না। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, ইভিএমে নির্বাচন নয়। ১৫ বছর আগে আমার যে ভাই ভোটার হয়েছে সে বলতে পারবে না ভোট কেমন।

সমাবেশ প্রস্ততি কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম ডাঃ জাহিদ হাসান নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, মামলা প্রত্যাহার ও নেতাদের মুক্তি না দিলে আওয়ামী লীগ নেতারা পালাবার পথও খুঁজে পাবেন না। এই জনগণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আপনাদের উৎখাত করবে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ কী করলো, বাধা দিয়ে একদিনের সমাবেশ তিন দিনে শেষ করলো। ষড়যন্ত্র করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে একের পর এক মামলা দিয়েও বিএনপিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, এর প্রমাণ আজকের জনসমুদ্র।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, এ সরকারে পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাবোনা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার জেলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে, প্রস্ততি নিয়েন।

বিএনপির অপর যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, জনগণের আদালতে সবকিছুর বিচার হবে। আমরা মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এ আন্দোলন সফল হবেই হবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ধানের শীষের এই বরিশালে আপনার মামাতো-ফুফাতো ভাইদের দিয়ে কিছু হবেনা। এই মহাসমাবেশ দেখুন, পায়ে হেঁটে মানুষ চলে এসেছে। এখন কী করবেন, বাধা দিয়ে তো কোনো লাভ হলো না।

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকার ও জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে দলীয় নেতাকর্মী হত্যা, হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গণসমাবেশের অংশ হিসেবে বরিশালে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশালনিউজ/ স্টাফ রিপোর্টার