দশম সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিন হিসাবে আজ শুক্রবার গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদযাপন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করবে তারা।
রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে মাঠ দখলে রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ।
সূত্র জানায়, ঢাকার বাইরে কর্মসূচির নামে বিএনপি যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য তৃণমূলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বিএনপির কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করতেও বলা হয়েছে।
গত তিন বছরের মতো দিনটিতে এবারো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। সমাবেশ করতে চাইলেও অনুমতি না পাওয়ায় ঢাকায় কোনো কর্মসূচি রাখছে না বিএনপি। তবে ঢাকার বাইরে মহানগর, জেলা ও উপজেলা সদরে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসের’ কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করবে দলটি। ঢাকার বাইরে দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আবারো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাই সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছে না। এদিকে দিনটিকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও বেশ সতর্ক। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জানা গেছে, গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের দিনে বিএনপি-জামায়াত যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ সারাদেশে সতর্ক অবস্থানে থাকবে। রাজধানী অলিগলিসহ দুই শতাধিক স্থানে ভোর থেকে দিনভর সতর্ক অবস্থানে থেকে বিজয়োৎসব পালন করবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যে কোন ভাবেই হোক এদিন রাজপথ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ।
সূত্র জানায়, গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে পুরো ঢাকায় ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। দুটি সমাবেশে ২০ লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী নাশকতা, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা, লাগাতার অবরোধ-হরতালের নামে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে পুরো দেশকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ বাসে-ট্রেনে আগুন, ট্রেনের ফিসপ্লেট খুলে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। একের পর এক হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, হুমকি-ধামকির পরও জনগণ এই দিনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রদান করার জন্য ভোট কেন্দ্রে যান। শতকরা ৪২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ওইদিন নির্বাচন না হলে মার্শাল ল হতো বাংলাদেশে। দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়তো। এই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বাধাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন।
-ইত্তেফাক /সম্পাদনায় বরিশাল নিউজ ডেস্ক