মার্চ ১৭, ২০১৮

এখন সমঝে চলতে হবে !

সাকিব আল হাসান-গাভাস্কার

কলম্বোর প্রেমাদাসায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে উত্তেজনার মুহূর্তে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সমালোচনা করলেন গাভাস্কার ।
গাভাস্কারের মতে, টাইগার অধিনায়কের এই আচরণ অগ্রহণযোগ্য। ম্যাচ শেষে একটি টেলিভিশনে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা একদমই ভাল ছিল না। এ ধরনের বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে আইসিসিকে…।’ গাভাস্কার এর ‘বিহিত’ও চান আইসিসির কাছে।

অথচ এই গাভাস্কারই আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ‘আউট’ না মেনে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন একবার। ঘটনাটি ১৯৮১ সালের। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চলতে থাকা টেস্ট ম্যাচে ডেনিস লিলির এলবিডব্লিউর আবেদনে আউট দিয়ে দেন আম্পায়ার রেক্স হোয়াইট। কিন্তু গাভাস্কারের দাবি ছিল, বলটি ব্যাট হয়ে গিয়ে প্যাডে লেগেছে। আম্পায়ারের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তখনই ক্রিজের অপর সঙ্গী চেতন চৌহানকে নিয়ে উত্তেজিত হয়ে মাঠ ছেড়ে প্রায় বেরিয়ে যান গাভাস্কার। যদিও পরে সেটা মীমাংসা হয়ে যায়।

কিন্তু নিজেই একসময় ‘অন্যায়’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গাভাস্কার এখন কেন আবার সাকিবের প্রতিবাদী রূপের সমালোচনা করছেন, সে নিয়ে উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রিকেটপ্রেমীরা।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রতিবাদী হয়ে ওঠা ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ দলগুলোর বর্তমান ও সাবেকদের ‘সমালোচনার’ বিষয় হলেও এমন ঘটনার নজির অবশ্য এবারই প্রথম নয়। যে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচ ঘিরে আলোচনা, সেই লঙ্কানদেরই ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনার নজির আছে।
১৯৯৫ সালে সেই মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ চলছিল শ্রীলঙ্কার। মুত্তিয়া মুরালিধরনের বলে বারবার ‘নো’ ডাকছিলেন আম্পায়ার
ড্যারেল হেয়ার। লঙ্কানদের তখনকার অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা মাঠ থেকে উঠে যান। নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে ফিরে প্রান্ত বদল করেন। বছর তিনেক পর এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে সেই মুরালিধরনের বলে বারবার ‘নো’ ডাকছিলেন আম্পায়ার রস এমারসন। প্রতিবাদমুখর রানাতুঙ্গা তখন দল নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান। পুরো দল বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, রানাতুঙ্গা মাঠের বাইরে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দু’পক্ষের আলোচনা শেষে ফের মাঠে আসে শ্রীলঙ্কা দল।
শুক্রবারের ম্যাচে সাকিবের কথায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচ ছেড়ে দিলে টুর্নামেন্ট থেকে ‘ডিসকোয়ালিফাইড’ হয়ে যেতে পারতো বলে ধারণা ছড়ালেও ওই মুহূর্তের প্রতিবাদের প্রশংসাও করছেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা।
ক্রীড়া সাংবাদিক ও লেখক রাজীব হাসানের ভাষ্যে, ‘অনেকে দেখলাম সাকিবের তীব্র সমালোচনা করছেন সাকিব মাঠ ছেড়ে আসতে বলেছিলেন বলে। এই প্রতিবাদগুলোর দরকার আছে। ভবিষ্যতে আম্পায়ারদের ব্যাক অব দ্য মাইন্ডে এটা থাকবে। তারা বাড়তি সতর্ক থাকবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিতে।’
রাজীব উল্লেখ করেন, ‘ফুটবলে রেফারিকে নিয়ে মন্তব্য করে সবচেয়ে বেশি জরিমানা গুনেছেন আলেক্স ফার্গুসন আর হোসে মরিনহো। রেফারি তাদের সমঝেও চলে। এখন বাংলাদেশকেও সমঝে চলতে হবে। কম অন্যায়ের শিকার তো হইনি!’
-বাংলা নিউজ২৪

Subscribe to the newsletter

Fames amet, amet elit nulla tellus, arcu.