ডিসেম্বর ২৮, ২০২২

“আমরা এগিয়ে যাব দুর্বার গতিতে”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের মাথার মুকুটে আমরা আরেকটি নতুন অহংকারের পালক যুক্ত করলাম। তিনি আরও বলেন, আমরা এগিয়ে যাব দুর্বার গতিতে। এগিয়ে যাবে বাঙালি দুর্বার গতিতে।”

দেশে ২৮ ডিসেম্বর প্রথম মেট্রোরেলের ফলক উন্মোচনের পর সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সব বাধা অতিক্রম করে গড়ে তুলব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। গড়ে তুলব স্মার্ট বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেলের উদ্বোধন ঢাকাবাসীর বহুলপ্রতীক্ষিত স্বপ্ন। এমআরটি লাইন-৬-এর উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে আজ মহানগরবাসীর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। মেট্রোরেল উদ্বোধনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেলের উদ্বোধনের ফলে একই সঙ্গে প্রযুক্তিতে চারটি মাইলফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমত, মেট্রোরেল নিজেই একটি মাইলফলক। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ প্রথম বৈদ্যুতিক যানের যুগে প্রবেশ করল। তৃতীয়ত, মেট্রোরেল রিমোট কন্ট্রোল যান। ডিজিটাল পদ্ধতিতে যেটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি ধাপ। চতুর্থত, বাংলাদেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন যানের যুগে প্রবেশ করল। মেট্রোরেলে সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দেশের পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের উন্নয়নযাত্রার সূচনা করেছিলেন। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার যোগাযোগব্যবস্থাকে উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতাহারে ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ৬টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা-২০৩০ গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রতিষ্ঠা করেছি। এর আওতায় চারটি মেট্রোরেল লাইনের নির্মাণ বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। দুটি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সময় ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ করিডর নির্মাণকাজের সমীক্ষা চলবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মেট্রোরেল ব্যবহারে সবাইকে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, অনেক টাকা খরচ করে মেট্রোরেল করা হয়েছে। এটা সংরক্ষণ করা, মান নিশ্চিত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ব্যবহারকারীদের দায়িত্ব। ডিজিটাল ডিভাইস যেন নষ্ট না হয়, ব্যবহারের ক্ষেত্রে যত্নবান হবেন। কেউ যেন আবর্জনা না ফেলে, খেয়াল রাখবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা মহানগরবাসী ও অংশীজনের সর্বাÍক সহযোগিতা ব্যতীত মেট্রোরেল নির্মাণ একটি দুরূহ কাজ ছিল। একটি সুন্দর মহানগরী বিনির্মাণে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, মেট্রোরেল লাইনের নির্মাণকাজের সময় দুই পাশের বাসিন্দা, ব্যবসায়ীসহ জনগণকে খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, কষ্ট হয়েছে। এখন সেই কষ্ট শেষ। করোনার বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতেও নির্ধারিত সময়ের আগে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের উদ্বোধন করতে পারলাম। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা, টিম ডিএমটিসিএল, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একীভূত প্রচেষ্টার ফসল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে।

মেট্রোরেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামালায় নিহত জাপানি নাগরিককে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের ওই ঘটনার পর মেট্রোরেলের কাজ পুনরায় চালু করার পেছনে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের যে ভূমিকা, তাও স্মরণ করেছেন শেখ হাসিনা। জাপানি নাগরিকদের স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মাণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের স্মৃতি যেন স্মরণে থাকে, আমরা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মেট্রোরেল চালুর ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মেট্রোরেলের কারণে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হবে। দৈনিক যাতায়াতের যে সময় নষ্ট হয়, টাকাপয়সা নষ্ট হয়, তা আর হবে না। আধুনিক পরিবহণব্যবস্থা হবে এই মেট্রোরেল। মেট্রোরেল পরিচালনায় চারগুণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমরা স্মার্ট জনশক্তি গড়ে তুলব। মেট্রোরেল পরিবেশবান্ধব। শব্দ ও কম্পন্ন দূষণমাত্রার অনেক নিচে থাকবে মেট্রোরেলে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রীর হাতে মেট্রোরেলের রেপ্লিকা মডেল তুলে দেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক ডাকটিকিট এবং একটি ৫০ টাকার স্মারক নোট অবমুক্ত করেন।

সূত্র: বাসস

Subscribe to the newsletter

Fames amet, amet elit nulla tellus, arcu.